দেশের চারটি মোবাইল অপারেটরের টাওয়ার ও নেটওয়ার্ক স্থাপনা থেকে গত ২০ মাসে প্রায় ১৬ হাজার মিটার পাওয়ার কেবল এবং ২ হাজারের বেশি ব্যাটারি চুরির ঘটনা ঘটেছে। কেবল ও ব্যাটারির পাশাপাশি টাওয়ারে থাকা রিমোট রেডিও ইউনিট (আরআরইউ) এবং বেস ট্রান্সসিভার স্টেশনের (বিটিএস) কার্ডও চোরেরা নিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটকের কেবল ও ব্যাটারি চুরির ঘটনা সবচেয়ে বেশি। অপারেটরদের মতে, এই চুরির ফলে অনেক এলাকায় নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হচ্ছে, যার ফলে গ্রাহকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং কোম্পানিগুলো আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম আট মাসেই চারটি অপারেটরের মোট ৭ হাজার ৯৬৪ মিটার পাওয়ার কেবল, ১৯৪টি আরআরইউ, ১৭০টি বিটিএস কার্ড এবং ৭৫৬টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। বিগত ২০ মাসে ৫০০টিরও বেশি আরআরইউ চুরি হয়েছে। চুরি ঠেকাতে অপারেটররা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি হয়নি। চুরির প্রতিকার চেয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিটিআরসির কাছে চিঠি দিয়েছে অ্যামটব।
অ্যামটবের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ জুলফিকার জানান, ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা যেমন বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, লালবাগ, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার ও গাজীপুরে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোতে চুরি ও ভাঙচুরের ঘটনা বাড়ছে। গত বছরের একই সময়ে চুরি হয়েছিল ৭ হাজার ৪৪২ মিটার। তিনি বলেন, এসব যন্ত্রপাতি স্থানীয় বাজারে সহজে পাওয়া যায় না, ফলে মেরামত বা নতুন যন্ত্রপাতি বসাতে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। দীর্ঘ সময় নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হন এবং অপারেটরদের আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, পাওয়ার কেবল চুরির ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেলিটক, যাদের ৬ হাজার ৭৪৯ মিটার কেবল চুরি হয়েছে। একই সময়ে গ্রামীণফোনের ৫০৭ মিটার, রবির ৪১৭ মিটার এবং বাংলালিংকের ২৯১ মিটার পাওয়ার কেবল চুরি হয়েছে। ব্যাটারি চুরির ক্ষেত্রেও টেলিটক শীর্ষে, যাদের ৪৫২টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে। এছাড়া রবির ২৫৩টি, গ্রামীণফোনের ২৭টি এবং বাংলালিংকের ২৪টি ব্যাটারি চুরি হয়েছে।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ জানিয়েছেন, ব্যাটারি ও ট্রান্সমিশন সরঞ্জামসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ চুরির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, আগে চট্টগ্রামে পাহাড়ি এলাকায় এসব ঘটনা বেশি ঘটলেও এখন তা অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। চুরি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিটিআরসি কাজ করছে। মোবাইল অপারেটরদের একটি সূত্র জানিয়েছে, গ্রাম এলাকায় টাওয়ার থেকে ব্যাটারি খুলে ভ্যান ও রিকশায় ব্যবহারের জন্য বিক্রি করা হচ্ছে, যা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

















