বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার সমাপ্ত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এদিন বিকাল থেকেই রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলগুলোতে ভক্তদের ঢল নামে। ঢাক-ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খধ্বনির পাশাপাশি ‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন এবং বনানী মাঠসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পূজামণ্ডপ থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বুড়িগঙ্গা নদীর ওয়াইজঘাট ও তুরাগ নদীর তীরে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিসর্জন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রায় ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি নদীর তীরে নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিসর্জনের জন্য বিশেষ নৌকা ও ক্রেনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল। রাজধানীর ৩৩টি পয়েন্টে এবারের বিসর্জনের স্থান নির্ধারণ করা হয়।
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে বুধবার সকাল থেকেই শুরু হয় বিজয়া দশমীর মূল আনুষ্ঠানিকতা। বিবাহিত নারীরা দেবী দুর্গাকে মিষ্টি, পান ও সিঁদুর দিয়ে বরণ করে নেন এবং একে অপরের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। বিকাল ৪টার দিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে পলাশী, জগনন্নাথ হল ও শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় ভক্তরা একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান এবং আলিঙ্গন করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতা জানান, এবারের দুর্গোৎসব অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দেবী দুর্গার কাছে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রার্থনা করেছেন ভক্তরা। রাজধানী ছাড়াও চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুরূপ আনন্দঘন পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়েছে। পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবী দুর্গা ঘোড়ায় চড়ে মর্ত্যে এসেছিলেন এবং নৌকায় গমন করেছেন। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ছয় দিনের এই উৎসব শেষ হলেও আগামী ২৫ অক্টোবর কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।

















