বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে বলিরেখা ও ভাঁজ পড়া মানবদেহের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ইন্ট্রিনসিক এজিং বা প্রাকৃতিক বার্ধক্য। সাধারণত ২৫ বছর বয়সের পর থেকেই ত্বকে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। এই সময়ে কোলাজেন উৎপাদন কমে যাওয়া, ইলাস্টিন ফাইবার দুর্বল হওয়া, কোষ পুনর্গঠনের গতি ধীর হওয়া এবং ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হ্রাস পাওয়ার ফলে ত্বক শুষ্ক, পাতলা ও কম নমনীয় হয়ে পড়ে।
বলিরেখা পড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। বংশগতভাবে যাদের ত্বক শুষ্ক বা পাতলা, তাদের ক্ষেত্রে দ্রুত বলিরেখা পড়ার প্রবণতা থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের অভাবে কোষ মেরামত হতে পারে না, ফলে ত্বক মলিন ও ক্লান্ত দেখায়। সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (ইউভি-এ ও ইউভি-বি) ত্বকের কোলাজেন ও ইলাস্টিন ভেঙে দেয়। ধূমপানের ফলে নিকোটিন রক্তনালি সংকুচিত করে পুষ্টি সরবরাহ ব্যাহত করে এবং অ্যালকোহল ত্বককে শুষ্ক করে তোলে। পাশাপাশি ভিটামিন এ, সি, ডি, ই, কে, ক্যালসিয়াম ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে কর্টিসল হরমোন বেড়ে গিয়ে ত্বকের কোষ নষ্ট করে ও বলিরেখা ত্বরান্বিত করে। অনিয়মিত জীবনধারা, যেমন কম পানি পান করা বা শরীরচর্চার অভাবও ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
বলিরেখা কমাতে বর্তমানে বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে। বোটক্স একটি অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি, যা ইনজেকশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট পেশিতে প্রয়োগ করে ভাঁজ বা বলিরেখা মসৃণ করা হয়। সাধারণত ২৫ বা তার বেশি বয়সী সুস্থ ব্যক্তিরা এই চিকিৎসা নিতে পারেন। এছাড়া ডার্মাল ফিলার, লেজার থেরাপি, মাইক্রোনিডলিং এবং পিআরপি (প্লেটলেট রিচ প্লাজমা) থেরাপিও বেশ জনপ্রিয়।
বলিরেখা প্রতিরোধের জন্য প্রতিদিন অন্তত দুবার এসপিএফ ৩০ বা তার বেশি মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। রোদে বের হওয়ার সময় ছাতা, হ্যাট বা সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী ক্লিনজার ও ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারের পাশাপাশি সপ্তাহে ১-২ দিন স্ক্রাবিং ও ফেস মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, ডিম ও মাছ রাখুন এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত হালকা ব্যায়াম বা যোগব্যায়াম, মানসিক চাপ কমাতে মেডিটেশন এবং রাত ১০টার মধ্যে অন্তত ৭ ঘণ্টার ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এছাড়া ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন এবং ঘুমানোর সময় সিল্ক বা সাটিন বালিশ ব্যবহার ত্বকের নমনীয়তা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

















