জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে, বর্তমান বিশ্বের সংকটগুলো এখন অতল খাদে রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নিজের বিদায়ী ভাষণে তিনি মন্তব্য করেন যে, পরাশক্তিগুলো এখন পর্যন্ত প্রমাণ করেছে যে কেবল সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তি ব্যবহার করে বৈশ্বিক সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।
বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে গুতেরেস বলেন, পরাশক্তিগুলোর এটি অনুধাবন করা জরুরি যে তাদের ক্ষমতা অসীম নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে শান্তি, অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে স্থিতিশীলতা এবং প্রযুক্তিগত শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। বর্তমান বিশ্বে ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর হয়েছে এবং পারস্পরিক আস্থার জায়গাটি ধসে পড়েছে। জলবায়ু সংকট এখন আর কোনো সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি প্রতিদিনের নির্মম বাস্তবতা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অবিশ্বাস্য গতি নির্মাতাদেরও দিশেহারা করে ফেলেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে গুতেরেস গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ধ্বংসলীলা ও হত্যাযজ্ঞকে মহাসচিব হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকালে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা বলে বর্ণনা করেন। তিনি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ব্লকে বিভক্তি এবং আধিপত্যবাদী প্রবণতা পরিহারের আহ্বান জানান। গুতেরেস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার মূল চ্যালেঞ্জ হলো ক্ষমতার পরিবর্তনশীল কাঠামোর সঙ্গে শাসনব্যবস্থার খাপ খাওয়াতে না পারা। রাষ্ট্রগুলোর পরিবর্তে এখন ক্ষমতা গুটিকয়েক বেসরকারি কর্পোরেশন ও ধনকুবের ব্যক্তির হাতে চলে গেছে, যারা রাজনীতি ও তথ্যের প্রবাহে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, বিশ্ব কি ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দিকে এগিয়ে যাবে, নাকি জাতিসংঘের নেতৃত্বে এক সুষম বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দিকে মোড় নেবে? গুতেরেসের মতে, ক্ষমতা আইনের অধীনে পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। তিনি দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে আন্তর্জাতিক সনদ রক্ষা এবং সব বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষার আহ্বান জানান। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
২১ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করে গুতেরেস বলেন, তহবিল সংকট সত্ত্বেও জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ নেতৃত্ব ও প্রধান কার্যালয়ে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন এক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, যা মহাসচিব হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনকালে আগে দেখিনি।’
















