প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৬। ভারতের শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির ছেলে এবং তেল-গ্যাস ব্যবসার উত্তরাধিকারী অনন্ত আম্বানিকে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানসূচক অধ্যাপক বা ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস ইন সাসটেইনেবিলিটি’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য, সংরক্ষণ এবং প্রাণীকল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই বিশেষ পদটি দেওয়া হয়েছে।
তবে এই নিয়োগ ঘোষণার পর থেকেই পরিবেশবিদ, সংরক্ষণকর্মী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের মধ্যে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গুজরাটে অনন্ত আম্বানির প্রতিষ্ঠিত ‘ভান্তারা’ নামক চিড়িয়াখানাটি। এক হাজার ৪০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রকল্পে প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার প্রাণী রয়েছে, যার মধ্যে ২০০টি সিংহ, ২৫০টি চিতাবাঘ এবং ৯০০টি কুমির অন্তর্ভুক্ত। অতীতে বিভিন্ন সংরক্ষণবাদী মহল ভান্তারার কিছু বিপন্ন প্রাণীর উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভারতের প্রখ্যাত পরিবেশচিন্তাবিদ রামচন্দ্র গুহ এই নিয়োগকে ‘রহস্যজনক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা অনেক যোগ্য ব্যক্তিকে এই সম্মানের জন্য বিবেচনা করা সম্ভব ছিল। একই সাথে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠনও এই নিয়োগের ফলে সৃষ্ট পরিবেশগত উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এনেছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের অধ্যাপক লাইলা মেহতা এই বিষয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সরকারি অর্থায়ন হ্রাসের ফলে এখন এমন একটি বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছে যেখানে ধনী ব্যক্তি বা করপোরেট অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনের এই সংকটময় সময়ে তেল-গ্যাস খাতের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তিকে এমন একটি একাডেমিক পদ প্রদান করায় তেলবিরোধী গবেষণা সংস্থা ‘অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনাল’ও কড়া সমালোচনা করেছে।

















