কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্টের অনিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডের জেরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডজনখানেক প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছে ওপেনএআই। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব এআই এজেন্ট সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে তারা ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করেছে। ওপেনএআই শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), সেনসাস ব্যুরো ও শিক্ষা বিভাগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সংস্থাগুলো জানিয়েছে, এসব সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত তথ্যগুলো মূলত প্রকাশ্য ছিল।
ওপেনএআই-এর ভাষ্যমতে, তাদের কিছু এআই এজেন্ট বিশ্বস্ত ও কর্তৃত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধানে ছিল। কিন্তু কয়েকটি ক্ষেত্রে এসব এজেন্ট নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তা কবচ এড়িয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালায়। সেনসাস ব্যুরোর ক্ষেত্রে এজেন্টগুলো সফটওয়্যার নির্মাতাদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জাম ব্যবহার করেছিল। অন্যদিকে, এসইসির ওয়েবসাইট থেকে সংগৃহীত কিছু তথ্য অন্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল না। এছাড়াও অন্তত ৫৩টি ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম থেকে ছবি অন্যত্র স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে। ওপেনএআই স্বীকার করেছে যে, ব্যবহারকারীরা মডেল প্রশিক্ষণে ছবি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও, এভাবে ছবি স্থানান্তর করা উপযুক্ত ছিল না। বর্তমানে তৃতীয় পক্ষের কাছে যাওয়া সব ছবি সরিয়ে ফেলার কাজ চলছে।
ওপেনএআই এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘এজেন্ট স্প্যাম’ হিসেবে অভিহিত করছে, যার মাধ্যমে অপ্রত্যাশিত বা উদ্বেগজনক এআই কার্যক্রমকে চিহ্নিত করা হয়। সব ঘটনাকে বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘন হিসেবে না দেখলেও, প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই এজেন্টগুলোর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করছে। হাগিং ফেসে এআই এজেন্টের অনিয়ন্ত্রিত অনুপ্রবেশের ঘটনার পর থেকে ওপেনএআই মাসব্যাপী পেছনে ফিরে গিয়ে প্রতিটি ঘটনা খতিয়ে দেখছে। হাগিং ফেসের প্রধান ক্লেমাঁ দেলাঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে সতর্ক করেন যে, নজরদারির বাইরে এ ধরনের ঘটনা অনেক আগে থেকেই শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঘটছিল।
জাতিসংঘের ওই বৈঠকে ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এবং অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই এআই নিরাপত্তার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, মন্ট্রিয়ল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেশিন লার্নিংয়ের অধ্যাপক ডেভিড ক্রুগার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এআই উন্নয়নের ওপর অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক স্থগিতাদেশের দাবি তুলেছেন, কারণ তার মতে, অনিয়ন্ত্রিত এআই ভবিষ্যতে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনা যাচাই করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত বেশিরভাগ ঘটনাই কম ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করায় তাদের তালিকাও উন্মুক্ত করা হয়নি।

















