প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ০৭
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে চালানো হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. ওহাব মিনার এবং সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই প্রতিক্রিয়া জানান।
এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, এই ঘটনা কেবল একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসনের সক্ষমতা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দুই শতাধিক লোক রাতের অন্ধকারে একটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এমন তাণ্ডব চালাবে এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ তা ঠেকাতে ব্যর্থ হবে—এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক ঘটনা হতে পারে না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে সুবিধাবঞ্চিত মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃসেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের রেজিস্টার, গুরুত্বপূর্ণ নথি, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নগদ অর্থ লুট করেছে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পুরো স্থাপনাটি ভেঙে ফেলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জমির মালিকানা নিয়ে বৈধ দাবি থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইন, আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। লিজ বা মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর, লুটপাট কিংবা দখলের কোনো বৈধতা নেই। রাতের অন্ধকারে দলবল নিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
এবি পার্টির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয়, পদমর্যাদা বা প্রভাব বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। গণমাধ্যমে স্থানীয় কোনো রাজনৈতিক নেতা বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে, যা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে প্রভাবশালী ব্যক্তি হলেও তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং অভিযোগ মিথ্যা হলেও তা নিরপেক্ষ তদন্তে স্পষ্ট করতে হবে।

















