রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ (মিষ্টি)-এর সংশ্লিষ্টতা তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি আরও বলেছেন, তদন্তে যদি কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই, তবে অপরাধীদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এমপি মিষ্টির সংশ্লিষ্টতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। সেখানে একজন সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেই প্রশ্ন তদন্তাধীন। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থানার একজন পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্বে অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙচুর করেন। এ সময় দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। পরে এক্সক্যাভেটর দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ওই সমিতির কার্যক্রমের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। তবে এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি হামলার সঙ্গে নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন।
এই ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহআলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার কথা উল্লেখ করে বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। চাঁদাবাজদের তালিকা সরকারের কাছে রয়েছে এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কাজ। এসব তালিকায় সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নামও থাকে এবং তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং এটি আরও জোরদার করা হবে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমি দখল ও চাঁদাবাজির ঘটনায় ৩৮ বিশিষ্ট নাগরিকের উদ্বেগের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
















