কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) একটি পোশাক কারখানায় জিন ও পেত্নী দেখা গেছে—এমন গুজবে নারী শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার সকালে ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আতঙ্কিত নারী শ্রমিকরা চিৎকার করতে করতে কারখানা থেকে বেরিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন। ভিডিওতে শ্রমিকদের বলতে শোনা যায়, কারখানার ভেতরে জিন ও পেত্নী রয়েছে। কেউ কেউ চিৎকার করে অন্যদের ভেতরে প্রবেশ করতে নিষেধ করছেন, আবার কেউ দাবি করছেন তারা স্বয়ং পেত্নীর মুখোমুখি হয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এসকে আজাদ নামের একজন জানান, তিনি ইপিজেডের ভেতর থেকে শতাধিক নারী শ্রমিককে চিৎকার করে বেরিয়ে আসতে দেখে ভিডিও ধারণ করেন। পরে এক শ্রমিক তাকে নিশ্চিত করেন যে ভেতরে সত্যিই পেত্নী রয়েছে। রুবেল হোসাইন নামের আরেক শ্রমিক জানান, তার চোখের সামনেই ঘটনাটি ঘটেছে; জিনের আছড় হওয়ার পর কয়েকজন চিৎকার শুরু করলে ভয়ে সবাই কারখানা থেকে বেরিয়ে আসেন। হালিমা আক্তার নামে এক নারী শ্রমিক দাবি করেন, কিছুদিন আগে চর্থা এলাকার এক ব্যক্তিকে মেরে ফেলা হয়েছিল, যার শরীরে অসংখ্য দাগ ছিল। এছাড়া তানজিনা নামে অপর একজন জানান, ঘটনার পর দুপুর ১২টার দিকে অস্বাভাবিক আচরণের কারণে তিন নারীকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের ঘুমের ওষুধ দিয়েও শান্ত করা যাচ্ছিল না।
কুমিল্লা ইপিজেড কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সেখানে প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মরত আছেন, যার বড় একটি অংশ নারী। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত গুজব ও আতঙ্কের ওপর ভিত্তি করেই ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্র্যান্ডিক্স কোম্পানির ম্যানেজার শাহজাহানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এছাড়া কুমিল্লা ইপিজেড ফাঁড়ির ইনচার্জকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। কুমিল্লা ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এমন কোনো ঘটনার কথা তার জানা নেই, তবে তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছেন।

















