বাংলাদেশ

সাংবাদিকদের ওপর হামলা: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কৃত

প্রতিবেদক
সব খবর

চাঁদাবাজি, মারধর ও সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামকে সংগঠন থেকে আবারও বহিষ্কার করা হয়েছে। গত রোববার রাতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ওই হামলার ঘটনায় চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রদলের অন্তত ১০ জন নেতা-কর্মী এই হামলায় অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজেও তাঁদের কয়েকজনকে হামলায় জড়িত থাকতে দেখা গেছে। হামলার ঘটনায় আহসান হাবীব, হাসিবুল ইসলাম ও বিশাল চক্রবর্তীকে ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া আরও ছয়জনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগেও আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিল ছাত্রদল। চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পর ২০২৪ সালের অক্টোবরে দুজনকেই সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে তাঁদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট ঘোষিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়।

আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক কর্মীর সঙ্গে ফোনালাপ ফাঁস হয়েছিল। ওই ফোনালাপে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে এক শিক্ষার্থীকে পথরোধ করে টাকা দাবি ও মারধর করার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষার্থী প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করেন এবং মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধেও আগে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক সদস্যের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তাঁকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের জুনে এক শিক্ষার্থীকে আটকে চাঁদা দাবি, পুলিশে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে।

বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে আহসান হাবীব ও হাসিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ওঠে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আবু হাসান নামের এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত ও মারধরের অভিযোগ ওঠে হাসিবুলের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া চলতি বছরের ১৫ আগস্ট পুলিশ হাসিবুলকে সাতটি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ আটক করে। এ ঘটনায় করা মামলায় তিনি কারাগারে ছিলেন এবং পরে জামিনে মুক্ত হন।

হামলার ঘটনার আগে ছাত্রদল নেতা তাকবীর আহমেদের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতাকে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ করা হয় তাঁর বিরুদ্ধে।

গত রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলামকে খুঁজতে সেখানে যান। তাঁদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি, হকিস্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাট ছিল। সাংবাদিকেরা ঘটনাটি ভিডিও করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, শরিফুল ইসলাম ও তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাহজারুল ইসলাম ও ছাত্রদল কর্মী বিশাল চক্রবর্তীকে শনাক্ত করা হয়েছে।

হামলার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ আলামত আড়াল করতেই ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে। তবে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, সংস্কারকাজ চলায় সিসিটিভির সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে হামলার ঘটনায় তাঁকে হলের প্রাধ্যক্ষের পদ থেকে অব্যাহতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অর্থনীতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিশাল চক্রবর্তী এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুল্লা-হিল-গালিবের অনুসারী ছিলেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং মামলাও করা হয়েছে। সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেছেন, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সব খবর