সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার পৃথক অভিযোগে কারাবন্দি ছিলেন বলে জানিয়েছে জেদ্দা কনস্যুলেটের শ্রম উইং। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির বরাত দিয়ে কনস্যুলেটের গোপনীয় স্মারকে উল্লেখ করা হয়, তাদের তা’জির হিসেবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে মসজিদের পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছিল। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষ তাদের বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করেনি, তবে জেদ্দা কনস্যুলেটের অনুরোধের ভিত্তিতে ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্ত তালিকায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
তালিকায় নজরুল ইসলাম আব্দুল বশিরের পরিচয় পাওয়া যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার হাবলা গ্রামের বাসিন্দা হিসেবে। তিনি সৌদি আরবের আল মাজাল কোম্পানিতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছিলেন। ২০২৩ সালের ১ আগস্ট তাকে সাইবার অপরাধের অভিযোগে আটক করা হয় এবং তিনি জেদ্দা সংশোধনাগারে ছিলেন। অন্যদিকে, সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার নগর সাউয়ালী গ্রামে। তিনিও আল মাজাল কোম্পানিতে কাজ করতেন। তাকে ২০২৩ সালের ২ আগস্ট ব্যভিচারের অভিযোগে আটক করা হয় এবং তিনি জেদ্দা মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। সৌদি আরবে সাইবার অপরাধ বা ব্যভিচারের অভিযোগে কোনো বাংলাদেশিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার এটিই প্রথম নজির।
জেদ্দা কনস্যুলেট জানিয়েছে, সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৩০৬ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন চারিত্রিক মামলায় আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৪৭ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ঘোষিত হয়েছে। এই তালিকায় ফজল মিয়া, গ্রাম: নগর সাউয়ালী, ডাকঘর: মহেরা-১৯৪৫ (১৯৪৫), উপজেলা: মির্জাপুর, জেলা: টাঙ্গাইল বলে জানা গেছে। কনস্যুলেটের স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সৌদি আদালতে শুনানি চলাকালীন অনুবাদক নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘মারকাযুত তারজামাহ আল মুওয়াহহাদ’ নামক প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়, ফলে মিশনের পক্ষ থেকে সরাসরি আসামির পক্ষে বিচারিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে না।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আবেদন বা যোগাযোগ কনস্যুলেটের কাছে আসেনি। এছাড়া সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে রায় ঘোষণা বা কার্যকরের বিষয়ে অবহিত করা হয়নি। বর্তমানে রায়ের কপি ও মামলার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় একটি নোট ভারবাল পাঠানো হয়েছে বলে জেদ্দা কনস্যুলেট নিশ্চিত করেছে।
তবে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলখানায় বিভিন্ন অপরাধে আটক বাংলাদেশিদের তথ্য চেয়ে জেদ্দা কনস্যুলেট থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধের ভিত্তিতে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পাওয়া তালিকায় নজরুল ইসলাম আব্দুল বশিরের ইকামা নম্বর: ২৫৩৮৩৬৬৮২০, পাসপোর্ট নম্বর: A03771867, বাবা: আব্দুল বশির, গ্রাম: বিরামপুর, ডাকঘর: হাবলা উচ্চ-৩৪০০, উপজেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে জানা যায়।
আর সুইটি আক্তারের ইকামা নম্বর:২৫৪১৩২৪৮৫৭, পাসপোর্ট নম্বর: A04031842, বাবা: মো.

















