নাটোরের বড়াইগ্রামে ট্রাকের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩২ জন। গতকাল মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজন শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ব্যবসায়ী। তাঁরা কৃষিপণ্যের বীজ ও অন্যান্য পণ্য কিনতে রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় জাজিরার কাজীরহাট বাজার থেকে সাতজন ব্যবসায়ী যাত্রা শুরু করেছিলেন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন জুয়েল মাদবর (৪০), সালাল মোল্যা (৪৫), সোহাগ শিকদার (৩০), আবদুস সামাদ ফকির (৭০) ও শাহিন ব্যাপারী (২৫)। তাঁদের মধ্যে জুয়েল মাদবর রবিশস্য কেনাবেচার পাশাপাশি কাজীরহাট বাজারে রড-সিমেন্টের ব্যবসাও করতেন।
দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের বাসিন্দা রুবিনা আক্তারের (৩৬) স্বামী শহিদুল ইসলাম (৪০) ও আট বছরের মেয়ে তাছফিয়া খাতুন (৮)। পূজার ছুটি কাটাতে তাঁরা রাজশাহীতে বড় বোনের বাসায় যাচ্ছিলেন। রুবিনা ও তাঁদের ১০ বছরের ছেলে লাবিব হোসেন (১০) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তবে রুবিনা এখনো জানেন না যে তাঁর স্বামী ও মেয়ে আর বেঁচে নেই।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাত ব্যবসায়ী প্রথমে নাওডোবা থেকে বাসে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় যান। পরে বরগুনা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী আরপি স্পেশাল পরিবহনের বাসে ওঠেন। বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নয়জন নিহত হন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়।
রুবিনা পটুয়াখালীর পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালি শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং তাঁর স্বামী শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ক্রেডিট ম্যানেজার ছিলেন। তাঁদের মেয়ে তাছফিয়া তৃতীয় শ্রেণিতে ও ছেলে লাবিব পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ত।
নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি লাবিবের পাশে আছেন রুবিনার ভগ্নিপতি শহিদুর রহমান। তাঁর স্ত্রী রয়েছেন রুবিনার সঙ্গে। রুবিনা বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন। গতকাল সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ব্যথায় কাতরাচ্ছেন রুবিনা এবং বারবার স্বামী ও সন্তানদের খোঁজ জানতে চাইছেন।
কাজীরহাট বণিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম জানান, নিহত ব্যবসায়ীদের মরদেহ আনতে তাঁরা নাটোরের পথে রওনা হয়েছেন। আহত দুই ব্যবসায়ীর স্বজনেরা তাঁদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে রাজশাহীতে গেছেন। বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর খলিফা বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো এলাকায় নেওয়া হবে এবং সেখানে শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে।

















