গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া নানা কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। এই বিশেষ দিনটিকে ঘিরে পুরো প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণকে আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়, যা ক্লাব সদস্যদের ও তাদের পরিবারের জন্য একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সন্ধ্যায় কেক কাটার মধ্য দিয়ে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল বিশেষ আলোকচিত্র প্রদর্শনী, নৈশভোজ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং আকর্ষণীয় রাফেল ড্র। এর আগে গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া কর্মসূচির তালিকায় ছিল স্মরণ সভা, টেবিল টেনিস, দাবা, নারী সদস্যদের লুডু, স্পেড ট্রাম্প ও এয়ারগান শুটিং প্রতিযোগিতা। এছাড়া শিশু আনন্দমেলা ও মিনি ম্যারাথন প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যেখানে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা বক্তব্য রাখেন। বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান এমপি, সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাসসের চেয়ারম্যান কবি আব্দুল হাই শিকদার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাদের গনি চৌধুরী এবং শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এমপি।
অনুষ্ঠানে আমান উল্লাহ আমান দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ঐতিহাসিক অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রেস ক্লাব। সাংবাদিকরা ১৯৭১, ১৯৯০ এবং চব্বিশের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পক্ষে লেখনির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে তারেক রহমানকে প্রধান অতিথি করে অনুষ্ঠান করায় তৎকালীন সভাপতির নির্দেশে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, যা ছিল অত্যন্ত দুঃখজনক।

















