গৌরীপুরের প্রায় শত বছরের ইতিহাসের সাক্ষী ও জমিদার আমলের নাট্যচর্চার স্মৃতিবাহী ঐতিহাসিক ‘ঝলমল সিনেমা হল’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে ভবনের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় তিন ঘণ্টার নিরলস প্রচেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রায় ২০ বছর ধরে সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ থাকা এই হলটির ভবন বর্তমানে বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহৃত হতো। অগ্নিকাণ্ডে ভবনের ভেতরে থাকা এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম, ফার্নিচার কারখানা, লাইটিং ও ডেকোরেটরের মালামাল এবং সামনে অবস্থিত ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা পৃথকভাবে লাখ থেকে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন।
তানভীর এলপিজি স্টোরের মালিক তানভীর আহমেদ জানান, তিন বছর ধরে তিনি হলের একাংশে গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম চালাচ্ছিলেন। আগুন লাগার আগের রাতে ২৫০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের একটি নতুন চালান এসেছিল, যার সবই পুড়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ফার্নিচার কারখানার মালিক তাজউদ্দীন ভূট্টো জানিয়েছেন, তার কাঠ, নির্মাণাধীন আসবাবপত্র ও মেশিনারি পুড়ে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি লাইটিং ডেকোরেটর ব্যবসায়ী বকুল ইসলাম জানান, তার বেশ কয়েকটি জেনারেটরসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে গেছে এবং ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মজনু মিয়া জানিয়েছেন, তাদের কার্যালয়টি পুড়ে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. খবিরুল আলম জানান, খবর পেয়ে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রথমে কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় পরে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিট অভিযানে যোগ দেয়। আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

















