মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পরিষদের সামনে গণ উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। বুধবার শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ প্রায় শতাধিক ভুক্তভোগী অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, সমিতিটি ঋণের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, অনিয়ম, চক্রবৃদ্ধি সুদ এবং গ্রাহকদের ব্ল্যাংক চেক রেখে হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, দরিদ্র ও স্বল্পশিক্ষিত মানুষ সংসারের প্রয়োজনে এই সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই তাদের ওপর অতিরিক্ত অর্থের চাপ প্রয়োগ করা হয়। মূল ঋণের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করে মামলা ঠুকে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া ঋণ নেওয়ার সময় জামানত হিসেবে রাখা ব্যাংকের স্বাক্ষরিত ব্ল্যাংক চেক ফেরত না দিয়ে উল্টো গ্রাহকদের আইনি জটিলতায় ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে অনেক ভুক্তভোগী মামলার ভয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন না এবং কয়েকজন গ্রাহক ইতোমধ্যে কারাবন্দিও হয়েছেন বলে অনশনকারীরা দাবি করেছেন।
অনশনে অংশ নেওয়া কাঠালবাড়ি ইউনিয়নের হাসান মৃধা জানান, ২০২১ সালে তিনি ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন যা তিনি পরিশোধ করেছেন। কিন্তু ২০২৬ সালে এসেও প্রতিষ্ঠানটি তার কাছে টাকা পাওনা দাবি করছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবুল হাশেম মিয়া বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে এই অনিয়ম চালিয়েছেন। ভুক্তভোগীরা এখন ঋণের বোঝা ও মামলার আতঙ্কে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হওয়ার পথে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীদের কথা শোনেন। তিনি তদন্তের আগে কোনো গ্রাহককে হয়রানি বা গ্রেপ্তার না করার বিষয়ে পুলিশ সুপার ও ওসিকে বলার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাশেম মিয়া। তিনি দাবি করেছেন, গ্রাহকরা টাকা পরিশোধ না করায় মামলা করা হয়েছে এবং বর্তমানে শতাধিক গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান। তিনি অভিযোগকারীদের সমিতির কার্যালয়ে এসে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঋণের অনিয়ম তদন্ত, হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

















