রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্যের কক্ষের তালা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেনের উপস্থিতিতে খুলে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর আগে, উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হককে তার উপশহরের বাসা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে আসেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
উপাচার্যকে তার বাসা থেকে কার্যালয়ে নিয়ে আসার সময় রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি জয়নাল আবেদিন শিবলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, যুবদলের আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম জনি, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আকবর আলী জ্যাকি এবং সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লিমন উপস্থিত ছিলেন। তালা খোলার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কক্ষটি থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফ হোসেন জানান, বহিরাগত কেউ কক্ষটিতে তালা ঝুলিয়ে রেখেছিল। তালা খুলে কক্ষটি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বর্তমানে সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি বলেন, কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় উপাচার্যকে সসম্মানে বাসা থেকে নিয়ে এসে তার চেয়ারে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি কোনো ধরনের দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে প্রশ্রয় দেয় না এবং এ ঘটনায় দলের কেউ জড়িত থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, উপাচার্যকে জোর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, বুধবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় এবং তদন্তে ঘটনাস্থলে তাদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য আলী আকবর হোসেন ও রাজশাহী মহানগর জিয়া মঞ্চের সিনিয়র সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দুলাল।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৫০-৬০ জন ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা আগে থেকে লিখে আনা পদত্যাগপত্রে উপাচার্য অধ্যাপক জাওয়াদুল হক ও ব্যক্তিগত সচিব নাজমুল হাসানকে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করে এবং উপাচার্যকে কার্যালয় থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার মানববন্ধন করেছেন মেডিকেল কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

















