রংপুরে চাঞ্চল্যকর চার খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ পরীক্ষায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামতের সঙ্গে আসামিদের ডিএনএ নমুনার মিল পাওয়ায় তাদের অপরাধের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। তিনি জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ২৯ সেপ্টেম্বর সেগুলো ঢাকায় সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হয়। এর আগে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবে তাদের ডোপ টেস্টসহ প্রাথমিক পরীক্ষায়ও পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গিয়েছিল।
তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হত্যাকাণ্ডের পর বাসায় বসে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধর খেজুর, শসা এবং বিড়ি খাওয়ার আলামতসহ মোট ৩৫টি ছোট-বড় আলামত ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষা শেষে সবগুলো আলামতের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তিনি আরও বলেন, এই আলামত ও স্যাম্পলের সাথে আসামিদের হুবহু মিল পাওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আর কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মাহবুব রশিদ জানান, সব রিপোর্ট পজিটিভ আসায় আসামি শনাক্ত হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তাদের হাতে পৌঁছাবে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের পর যারা নানা ধরনের উসকানি ও বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার এই ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে তাদের বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে খুব শীঘ্রই আদালতে চার্জশিট দাখিল করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছে পুলিশ।
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২: ৪৫আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩: ২০

















