দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্ট বন্যা, পাহাড় ধস ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, সরকার দুর্যোগ কবলিত এলাকায় উদ্ধার, সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক এ পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখছেন। শনিবার বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানে জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী নিজে নিবিড়ভাবে মনিটরিং করছেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রযন্ত্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে জনগণের পাশে থাকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। রোববারও প্রধানমন্ত্রী সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানানো হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম সফর করছেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তার দলের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রায় ২ কোটি টাকার বেশি অর্থ সহায়তা নিশ্চিত করেছে। খাদ্যসামগ্রীসহ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
উদ্ধার তৎপরতায় কোস্টগার্ড, বিজিবি এবং প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করা হয়েছে। পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় মেডিকেল টিম গঠন এবং সাপের দংশন ও ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এক হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে যেখানে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর দ্রুত রাস্তা ও রেলপথ মেরামতের জন্য এলজিইডি ও সড়ক ও জনপথ বিভাগকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিখাত, মৎস্য চাষ ও গবাদি পশু পালনকারীদের পুনর্বাসনের জন্যও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো: সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ), শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার উপস্থিত ছিলেন।

















