দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার তথ্যানুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত মোট প্রাণহানির সংখ্যা ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২ হাজার ১৯৩ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যার ফলে এ বছর এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৯৯ হাজার ২৭৫ জনে পৌঁছেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া গেছে, যেখানে ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩০ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৯৩ জন, খুলনায় ৩০৪ জন, বরিশালে ২৩৬ জন, রাজশাহীতে ১৬০ জন, রংপুরে ৮৪ জন, ময়মনসিংহে ৭০ জন এবং সিলেটে ১৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসকরা আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, জটিল কোনো উপসর্গ না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। তবে শরীরের তীব্র কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত মশা কামড়ানোর কয়েক দিন পর ডেঙ্গুর উপসর্গ প্রকাশ পায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে উচ্চ মাত্রার জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা, মাথা ও চোখ ব্যথা, অরুচি এবং বমি অন্যতম। এছাড়া কারো কারো ক্ষেত্রে পাতলা পায়খানা, চুলকানি বা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দিতে পারে। তবে তীব্র পেটব্যথা, নাক বা বমির সঙ্গে রক্তপাত, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা, রক্তচাপ কমে যাওয়া, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলোকে ডেঙ্গুর ভীতিকর উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন চিকিৎসকরা।

















