চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হলেও নিয়োগপত্র না পাওয়া ৮৩ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রায় ২৫ জন প্রার্থীর আমরণ অনশন শুরু করেছেন। রোববার সকাল ১০টা থেকে তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে কাফনের কাপড় পরে এই কর্মসূচি পালন করছেন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা পৌনে ছয়টা) তারা অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আন্দোলনকারীদের একজন, নেত্রকোনার পূর্বধলার আমানুর রহমান আমার দেশকে জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এই কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং রাতেও অবস্থান করবেন।
অনশনকারীদের মূল দাবি হলো, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও কেন তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না, তা স্পষ্ট করা এবং দ্রুত নিয়োগপত্র ইস্যু করা। আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের আরেক আন্দোলনকারী বলেন, ‘নিয়োগের চূড়ান্ত পর্যায়ে সুপারিশ পাওয়ার পরও আমাদের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়নি। আমাদেরকে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি তাও জানি না। এতে আমরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি।’
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই খাতে যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, ন্যায়সঙ্গত আচরণ এবং প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষা জরুরি।
এর আগে শনিবার বিকাল ৫টার দিকে আন্দোলনকারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান। সেই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে রোববার থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ বিভিন্ন যাচাই-বাছাই শেষে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হয়। প্রথম তালিকায় অনেক সুপারিশপ্রাপ্তের নাম না থাকায় আন্দোলন শুরু হলে পর্যায়ক্রমে অধিকাংশকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

















