টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে পার্বত্য জেলা বান্দরবানে বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানির তোড়ে জেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এর ফলে বান্দরবান-চট্টগ্রাম এবং বান্দরবান-রাঙামাটি সড়কে টানা তৃতীয় দিনের মতো যান চলাচল বন্ধ রয়েছে, যা জেলাটিকে সারা দেশ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল জানিয়েছেন যে বৃষ্টির তীব্রতা বর্তমানে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে জেলার সাতটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল পুরোপুরি তলিয়ে গেছে, যার ফলে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন।
দুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য প্রশাসন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাইক্লোন শেল্টারে ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তবুও অনেকে বাধ্য হয়ে নিকটবর্তী ভবন বা নিরাপদ উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী কয়েকশ ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ সম্মিলিতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিগুলো খালি করার জন্য মাইকিং করছে। বান্দরবানের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম মঞ্জুরুল হক জানিয়েছেন, দুর্গতদের কাছে শুকনো খাবার, প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার এবং প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার জন্য জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

















