প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ২২
আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ২৬
গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পান খাওয়ার অনুষঙ্গ হলো চুন। বিশেষ করে ঝিনুকের খোলস থেকে তৈরি চুন পানের স্বাদ বাড়িয়ে দেয় বলে এর চাহিদা ব্যাপক। তবে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া গ্রামে বংশপরম্পরায় চলে আসা এই ঝিনুকের চুন তৈরির শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। এক সময় জলাশয়ে প্রচুর ঝিনুক পাওয়া গেলেও নদী-নালা ভরাট হওয়ায় কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি জ্বালানির উচ্চমূল্য ও মজুরি বাড়ায় অনেকে এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যুক্ত হয়েছেন।
উপজেলার ৭ নম্বর শিবনগর ইউনিয়নের রাজারামপুর চুনিয়াপাড়া গ্রামে এখনো ৮টি পরিবার এই সনাতনী পেশাকে আঁকড়ে ধরে টিকে আছে। এই পরিবারগুলোর জীবিকা পুরোপুরি ঝিনুক থেকে চুন তৈরির ওপর নির্ভরশীল। চুনিয়াপাড়া নামের সার্থকতাও এই কারিগরদের ঘিরে। সরেজমিনে দেখা যায়, পরিবারের নারী-পুরুষরা সম্মিলিতভাবে ঝিনুক সংগ্রহ থেকে শুরু করে রোদে শুকানো এবং মাটির চুল্লিতে উচ্চ তাপে ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরির কাজ করছেন। দীর্ঘ সময়ের উত্তাপে ঝিনুক সাদা ছাইয়ে পরিণত হওয়ার পর বিশেষ প্রক্রিয়ায় চুন তৈরি করা হয়। একজন কারিগর প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট কেজি চুন উৎপাদন করেন, যা স্থানীয় হাট-বাজারে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়।
চুন কারিগর বিমল চন্দ্র দেবনাথ ও তার স্ত্রী গীতা রানী দেবনাথ জানান, বাপ-দাদার আমলের এই পেশাটি তারা অনেক কষ্টের মধ্যেও টিকিয়ে রেখেছেন। কারিগর নেপাল চন্দ্র দেবনাথের মতে, খাল-বিল ভরাট হওয়ার কারণে আগের মতো সহজে ঝিনুক পাওয়া যায় না, আবার জ্বালানির দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সরকারি বা বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পটি সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছামেদুল ইসলাম বলেন, চুনিয়াপাড়ার কারিগররা বংশপরম্পরায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানের বিষয়টি উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা করা হবে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা ও কাঁচামালের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে পারলে শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পাবে।

















