চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনের কারণে ২২ দিন ধরে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিয়োগের ২১ দিন পর সোমবার নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন উপাচার্যের পদত্যাগ ও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়টির পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংকট সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় নানা প্রশ্ন উঠছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কারও কারও ধারণা, এই আন্দোলনের পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এর আগে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে হওয়া আন্দোলনের পেছনেও এমন রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে মনে করেন তারা। তবে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, দলীয় রাজনীতির সঙ্গে এই আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনা করেই তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
চুয়েটের একাধিক সূত্রের দাবি, উপাচার্য নিয়োগ ও পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্বের প্রভাব থাকতে পারে। নেতাদের পছন্দ-অপছন্দের কারণেই উপাচার্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে বলে ক্যাম্পাসে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগ না দিয়ে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল বিএনপি সরকার। দায়িত্ব গ্রহণের ৫৬ দিনের মাথায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাঁকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন শুরু হয়, যার সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতির মাধ্যমে যোগ দিয়েছেন। ফলে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন ব্যক্তি প্রথম আলোকে বলেন, উপাচার্য একটি প্রশাসনিক পদ এবং সরকার বিবেচনা করবে কাকে দায়িত্ব দিলে বিশ্ববিদ্যালয় ভালোভাবে পরিচালিত হবে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে আন্দোলনের অধিকার থাকলেও উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্দোলন করা সমীচীন নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাঁরাও ক্লাসে ফিরতে চান, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল করাকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখছেন। অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সেশনজটের আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা দ্রুত সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
















