জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বড় শহরগুলোর প্রতি ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯টিই এমন স্থানে অবস্থিত, যেখানে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই অস্বাস্থ্যকর খাবার কিনতে পারে। এসব দোকানের মধ্যে রয়েছে স্ন্যাকসের দোকান, সুপারমার্কেট এবং মিষ্টি বিক্রির বিশেষায়িত দোকান। ইউনিসেফ জানিয়েছে, শিশুরা তাদের হাতখরচের টাকা দিয়ে খাবার বা পানীয় কেনার সময় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে বাধ্য হয়।
১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের কেনাকাটার অভ্যাসের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তাদের কেনা খাবারের তিন-চতুর্থাংশ বা ৭৫ শতাংশের বেশিই অস্বাস্থ্যকর। স্কুলের বিরতির সময় শিক্ষার্থীরা সসেজ রোল, ক্যান্ডি, চিপস ও কোমল পানীয়র মতো অস্বাস্থ্যকর খাবারগুলো হাতের কাছেই পেয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে স্কুলের আশপাশে এ ধরনের খাবার বিক্রির ওপর কোনো সুনির্দিষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞা বা নিয়মকানুন কার্যকর নেই। তবে স্থানীয় পৌরসভাগুলো এখন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন দাবি করছে। তাদের মতে, এসব ক্ষেত্রে কঠোর আইন প্রয়োগ করা প্রয়োজন এবং শিশুদের কাছে স্বাস্থ্যকর খাবার পৌঁছে দিতে সুপারমার্কেটগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা উচিত।
চলতি মাসের শুরুর দিকে আমস্টারডাম ইউএমসি-এর পরিচালিত একটি গবেষণাতেও একই ধরনের চিত্র পাওয়া গেছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৯৪ শতাংশ মাধ্যমিক ও বৃত্তিমূলক স্কুলের চারপাশে অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রির দোকান রয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ১৪টি পৌরসভার একটি জোট দাবি জানিয়েছে যে, নতুন দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত। আলমেয়ার, আমস্টারডাম, ডেন বস, লাইডেন, রোটারডাম, উট্রেখট, দ্য হেগ, ব্রেডা, গ্রোনিঙ্গেন এবং টিলবার্গ—এই শহরগুলোতে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় অস্বাস্থ্যকর খাবারের আধিপত্য প্রতিটি শহরেই অনেক বেশি।

















