সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে, যেখানে জমা থাকে অসংখ্য ছবি, ভিডিও এবং ব্যক্তিগত স্মৃতি। তবে একজন ব্যবহারকারীর মৃত্যুর পর তার অ্যাকাউন্টের কী হবে, তা নিয়ে মেটা ব্যবহারকারীদের দুটি বিকল্প ব্যবস্থা রাখার সুযোগ দেয়। ব্যবহারকারী চাইলে তার প্রোফাইলটিকে ‘মেমোরিয়ালাইজড’ বা স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করতে পারেন, অথবা মৃত্যুর পর তা চিরতরে মুছে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
কোনো অ্যাকাউন্ট স্মারক হিসেবে রাখা হলে প্রোফাইল নামের পাশে ‘রিমেম্বারিং’ (Remembering) শব্দটি যুক্ত হয়। এই ধরনের প্রোফাইলের আগের পোস্ট ও ছবিগুলো অপরিবর্তিত থাকে এবং তা ফ্রেন্ডদের প্রাইভেসি সেটিংস অনুযায়ী দেখা যায়। স্মারক প্রোফাইলগুলো কোনো বিজ্ঞাপন বা ‘পিপল ইউ মে নো’ অপশনে প্রদর্শিত হয় না। মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যদি কোনো পেজ বা গ্রুপ পরিচালিত হয়, তবে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া শেষে তা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
স্মারক প্রোফাইল দেখভালের জন্য ব্যবহারকারী আগে থেকেই একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তিকে ‘লিগ্যাসি কনট্যাক্ট’ বা উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করার সুযোগ পান। একজন লিগ্যাসি কনট্যাক্ট প্রোফাইল বা কভার ফটো পরিবর্তন, শোকবার্তা পিন করা এবং নতুন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণের অধিকার পান। তবে তিনি মৃত ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে সরাসরি লগইন করতে বা ব্যক্তিগত মেসেজ দেখার সুযোগ পান না।
অন্যদিকে, কোনো ব্যবহারকারী যদি মৃত্যুর পর তার তথ্য ফেসবুকে রাখতে না চান, তবে তিনি ‘ডিলিট আফটার ডেথ’ অপশনটি নির্বাচন করে রাখতে পারেন। এই অপশনটি চালু থাকলে মৃত্যুর প্রমাণপত্র পাওয়ার পর মেটা অ্যাকাউন্টটির সব তথ্য স্থায়ীভাবে মুছে ফেলে। যে কেউ খুব সহজে ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট সেন্টারের ‘মেমোরিয়ালাইজেশন’ সেটিংসে গিয়ে এই সিদ্ধান্তগুলো গ্রহণ করতে পারেন।

















