সৌদি আরবে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ শুক্রবার সকালে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। বিমানবন্দরে স্বামীর মরদেহ নিতে এসে স্ত্রী কহিনুর আক্তার কাকলী সাংবাদিকদের কাছে স্বামীর সঙ্গে শেষ কথাগুলো স্মরণ করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কহিনুর আক্তার কাকলী জানান, তার স্বামী শাহেদ সৌদি আরবে যাওয়ার আগে তাকে বলেছিলেন, “কেঁদো না। এক-দেড় ঘণ্টা পর বাসায় গিয়ে তোমাকে ফোন দেব।” কিন্তু তার খুব ভয় লাগছিল। তিনি বলেন, “সে যাওয়ার আগে থেকেই কেমন যেন লাগছিল, আগে কখনো এমন ভয় লাগেনি। সৌদি আরবে যুদ্ধ হচ্ছে, এই ভেবেই আমি তাঁকে যেতে দিতে চাইনি। কিন্তু ও জোর করেই চলে গেল।”
শাহেদ সৌদি আরবের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জেদ্দা প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ভাইয়ের মৃত্যুর পর ছুটি কাটিয়ে দেশে থেকে রিয়াদ হয়ে জেদ্দায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার সময় তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন।
শাহেদ প্রায় দুই বছর আগে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। এর আগে আরও দুবার গেলেও কাজের ব্যবস্থা করতে না পারায় দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল। এবার তিনি প্রথমে শ্বশুরের কাছে থাকেন এবং পরে শ্বশুরের মাধ্যমে একটি কোম্পানিতে চালকের চাকরি পান। পরে কর্মস্থল বদল হওয়ায় জেদ্দায় চলে যান।
গত ৭ সেপ্টেম্বর শাহেদ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। এক মাস তিন দিন পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে আবার সৌদি আরবে ফিরে যান। এরপর ১০ অক্টোবর হুতিদের হামলায় প্রাণ হারান তিনি। শাহেদ বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
কহিনুরের ভাষ্যমতে, এক বছর ধরে কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর স্বামীর মনে নতুন করে স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল। এবার ভালোভাবে কাজ করবেন, পরিবারের জন্য কিছু করবেন, সংসারের হাল ধরবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে গেছে।
শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছালে তা গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পরে তিনি মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারকে আর্থিক সহায়তার চেক দেওয়া হয়। ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।
শাহেদ ও কহিনুরের সংসারে দুই ছেলে—জিহাদ (৫) ও কাউসার (১০)। বাবার মরদেহ নিতে স্বজনদের সঙ্গে বিমানবন্দরে এসেছিল তারাও। কহিনুরের বয়স এখন ২৬ বছর। ১৩ বছর বয়সে শাহেদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এত অল্প বয়সে স্বামীকে হারিয়ে এখন দুই সন্তানকে নিয়ে কীভাবে সামনে এগোবেন, সেই চিন্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে তার মনে। তিনি বলেন, “আমার দুটি সন্তান। ওদের দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ নেই। আমি চাই, আমার সন্তানদের নিয়ে যেন সারাটা জীবন বেঁচে থাকতে পারি। আমার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী যেন আমার পাশে দাঁড়ান।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে নিহত ১১ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। শাহেদ তাঁদের মধ্যে ১১তম। গত এক মাসে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে শাহেদ একজন। অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
অন্যদের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।.সৌদিতে এ বছরের প্রথম ৬ মাসে ৫৯ বিদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, আছে বাংলাদেশিও

















