বিশ্বজুড়ে পিএইচপি (হাইপারটেক্সট প্রিপ্রসেসর) প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফ ও উইজ নামক দুটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের গবেষকরা দীর্ঘদিনের এই ত্রুটিটি খুঁজে পান। তিনি বিবিসিকে বলেছেন, এটা তাঁর শনাক্ত করা সবচেয়ে গুরুতর ত্রুটি। নিরাপত্তার ত্রুটির খবর ফাঁস হয়ে গেলে ত্রুটির সুযোগে যখন হ্যাকাররা ওয়েবসাইটের নিয়ন্ত্রণ ও তথ্য চুরির চেষ্টা শুরু করে, তখনই বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ শুরু হয় এবং একের পর এক ওয়েবসাইট বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
বিজিডি ই-গভ সার্ট ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে জরুরি সতর্কবার্তা প্রদান করে। এর প্রেক্ষিতেই সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করছে। বাংলাদেশে ল্যান্ডডটগভডটবিডি ওয়েবসাইটটি বন্ধ থাকায় ভূমিসেবা নিতে আসা মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক আসিফ মাহমুদ জানান, তিনি বলেন, রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সাইট বন্ধ রাখার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি একটি সাময়িক ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে।
এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অগ্রণী, জনতা, আইএফআইসি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী, এসবিএসি ও বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকের ওয়েবসাইটগুলোও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা ৩২টি ওয়েবসাইট বন্ধ করেছে। ফ্রান্সের টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ‘অরেঞ্জ’ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ত্রুটি ঠিক করার কাজ চলায় তারা বিশ্বজুড়ে নির্দিষ্ট কিছু সেবায় প্রবেশের সুযোগ বন্ধ রাখে। বিজিডি ই-গভ সার্টের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল হক খন্দকার জানিয়েছেন, জাতীয় ডেটা সেন্টারে হোস্ট করা ওয়েবসাইট এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত একটি বেসরকারি হাসপাতালের ওয়েবসাইট আক্রান্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
পিএইচপি হলো বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ ওয়েবসাইট পরিচালনার মূল ভিত্তি। গত শতকের নব্বইয়ের দশকে রাসমাস লারডর্ফ এটি তৈরি করেন। এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ত্রুটি শনাক্তকারী গবেষক রায়ান অস্টিন একে অত্যন্ত গুরুতর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান টেকগ্লোবাল ইনস্টিটিউটের (টিজিআই) গত আগস্ট মাসের এক প্রতিবেদন বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত বাংলাদেশে অন্তত ৬৮টি তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৬টি সরকারি ও ৩২টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যভান্ডারের তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ২০২৩ সালেও ৫ কোটি মানুষের এনআইডির তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। ২১টি দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দ্রুত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হালনাগাদের পরামর্শ দিয়েছে।
















