গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে হারের ধাক্কা সামলে রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচে দারুণ এক জয় পেয়েছে নরওয়ে। আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে তারা জায়গা করে নিয়েছে। তবে নকআউটের এই পর্যায়ে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক কঠিন প্রতিপক্ষ, পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। বর্তমান বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচেও হারের মুখ দেখেনি। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে এই দুই দল। কাগজে-কলমে লড়াইটিতে ব্রাজিল ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও ইতিহাস ও পরিসংখ্যান ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফুটবল ইতিহাস এবং পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্রাজিলের জন্য মোটেও সহজ হওয়ার কথা নয়। কারণ বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ, কোনো আসরেই ব্রাজিলের বিপক্ষে জিততে পারেনি নরওয়ে। ফুটবলের ইতিহাসে নরওয়েই একমাত্র দেশ, যারা ব্রাজিলের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলে অপরাজিত থাকার বিরল রেকর্ড গড়েছে। এখন পর্যন্ত উভয় দল মোট ৪ বার মুখোমুখি হয়েছে এবং প্রতিবারই নরওয়ে অপরাজিত থেকে মাঠ ছেড়েছে। এই ৪ বারের লড়াইয়ে নরওয়ে জয় পেয়েছে দুইটি ম্যাচে এবং বাকি দুইটি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই লড়াইয়ের শুরু হয়েছিল ১৯৮৮ সালে, প্রথম ফিফা প্রীতি ম্যাচে। সেবার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে আরেকটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়ে ব্রাজিলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে অবিস্মরণীয় জয় তুলে নেয় নরওয়ে। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় এই দুই দল। সেই ম্যাচে ব্রাজিলের বেবেতো গোল করে দলকে লিড এনে দিলেও শেষ পর্যন্ত তরে আন্দ্রে ফ্লো ও জেতিল রেকডালের গোলে ম্যাচ জিতে নেয় নরওয়ে। বর্তমান বিশ্বকাপের প্রায় ২৮ বছর আগে সেবারই শেষবার নরওয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল।
১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের পর ২০০৬ সালে আবারও একটি প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয় ব্রাজিল ও নরওয়ে। সেই ম্যাচে দানিয়েল কারভালহো এবং মর্তেন পেডারসেন গোল করলে ম্যাচটি ১-১ ব্যবধানে ড্র হয়। প্রায় ২০ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের মুখোমুখি হওয়ার অপেক্ষায় ব্রাজিল ও নরওয়ে। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নরওয়ে চারটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় পেয়েছে। ইরাক ও সেনেগালকে হারিয়ে রাউন্ড অব ৩২ নিশ্চিত করলেও, ফ্রান্সের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল তারা। তবে নকআউট পর্বে আইভরি কোস্টকে হারিয়ে মার্টিন ওডেগার্ড ও আর্লিং হলান্ডরা নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, মরক্কোর বিপক্ষে ড্র দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও স্কটল্যান্ড ও হাইতির বিপক্ষে অনায়াস জয় পেয়েছে ব্রাজিল। রাউন্ড অব ৩২-র ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে গোলশূন্য অবস্থার শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে পরবর্তী রাউন্ড নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। এখন দেখার বিষয়, নকআউট পর্বে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অজেয় থাকার ধারা নরওয়ে বজায় রাখতে পারে কি না।

















