অপরাধ

মিঠামইনে বিয়ের গাড়ি আটকে হামলা, পুলিশসহ আহত ১৫

প্রতিবেদক
সব খবর

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের বাড়ি থেকে ফেরার পথে অটোরিকশাচালকদের হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. কাউসার মিয়া। তবে হামলায় আহত অন্যান্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ অক্টোবর মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকার স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। শনিবার দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কনের স্বজনেরা নবদম্পতিকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের বহনকারী অটোরিকশাটি কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানালে দয়াল মিয়া ও তার সহযোগীরা মিলে কনের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এতে কনের পরিবারের ১৪ জন সদস্য আহত হন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হয়। এতে পুলিশ সদস্য মো. কাউসার মিয়া আহত হন। ভুক্তভোগী মাইজচর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মিয়ার অভিযোগ, অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া ওই এলাকায় অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন এবং এলাকায় তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তার নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে। আহতদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, বিয়ের গাড়িকে সাইড দেওয়ার জন্য তার স্বামী হর্ন বাজালে মাইজচরের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে তার স্বামীর ওপর হামলা চালান। তার স্বামীও বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার জানান, মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সব খবর