বাংলাদেশ

জানুয়ারি এলেই ঢাকায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির আতঙ্ক

প্রতিবেদক
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের বিশাল বিক্ষোভ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের বিশাল বিক্ষোভ শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে শ্রম অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি ও ২১ ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন গাজীপুরে শ্রম অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি ও ২১ ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন বেরোবিতে ক্যারিয়ার-ভার্সের যাত্রা শুরু, নেতৃত্বে লাবণ্য ও মোবাশ্বির বেরোবিতে ক্যারিয়ার-ভার্সের যাত্রা শুরু, নেতৃত্বে লাবণ্য ও মোবাশ্বির বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার অবস্থান পঞ্চম বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার অবস্থান পঞ্চম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ব্যাপক ভাঙচুর মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ব্যাপক ভাঙচুর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাহামাগামী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাহামাগামী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ চলনবিলের অতিথি পাখিদের কলকাকলি, নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ চলনবিলের অতিথি পাখিদের কলকাকলি, নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ তাহসিফ হত্যা মামলা: বান্ধবী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর তাহসিফ হত্যা মামলা: বান্ধবী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় রিয়াল মাদ্রিদের রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় রিয়াল মাদ্রিদের
সব খবর

রাজধানীর অনেক পরিবারকে নতুন করে দুশ্চিন্তা গ্রাস করছে। বাড়িওয়ালারা এক টুকরো কাগজের নোটিশে জানিয়ে দিয়েছেন, ‘সম্মানিত ভাড়াটিয়া, আগামী জানুয়ারি ২০২৭ থেকে আপনার ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া বৃদ্ধি করা হলো।’ বাজার আর জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়ার মধ্যেই এই নোটিশগুলো ভাড়াটিয়াদের মধ্যে ‘জানুয়ারি-ভীতি’ তৈরি করেছে।

মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনের বেনারশী পল্লীর একটি বাড়ির মালিক গত সপ্তাহে ভাড়াটিয়াদের কাছে ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে এক লাফে ৫ হাজার টাকা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। অন্যথায় চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাসা খালি করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ জানিয়েছে, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পানির বিল, হোল্ডিং ট্যাক্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং অন্যান্য খরচ বৃদ্ধিসহ সার্বিক মূল্যস্ফীতির কারণে এই ভাড়া বৃদ্ধি অপরিহার্য। বর্ধিত ভাড়া আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

একইভাবে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দারাও ভাড়া বৃদ্ধির নোটিশ পেয়েছেন। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম, যিনি একটি বেসরকারি বিপণন কোম্পানিতে ৭ বছর ধরে চাকরি করছেন, তিনি ৩ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া বাড়ানো সংক্রান্ত নোটিশ হাতে নিয়ে চিন্তিত। তার বেতন গত দুই বছর ধরে ৪০ হাজার টাকাতেই আটকে আছে, অথচ গত এক বছরে চালের দাম ১৫ টাকা বেড়েছে, ছেলের স্কুলের বেতনও ১৫০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি ভাড়ার নোটিশ তার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।

বছরের প্রথম মাসেই ভাড়াটিয়াদের অতিরিক্ত এক থেকে তিন হাজার টাকা গুনতে হয়। নতুন বাসা নিতে হলে দুই থেকে তিন মাসের অগ্রিম ভাড়া এবং চলতি মাসের ভাড়া দিতে হয়, যা জোগাড় করতে অনেককে সঞ্চয় ভাঙতে বা ঋণ নিতে বাধ্য হতে হয়। ঢাকায় বাড়িভাড়া এখন কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি সামাজিক সংকটেও রূপ নিয়েছে। আইন থাকলেও তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের কারণে এমনিতেই মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যে বাড়ি ভাড়ার এই বাড়তি ঘোষণা যেন ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রফিকুল ইসলামের মতো ভাড়াটিয়ারা বলছেন, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য বজায় রাখা এমনিতেই কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই ভাড়ার এই বাড়তি চাপ তাদের পারিবারিক বাজেটে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তারা প্রশ্ন তুলছেন, বেতন না বাড়িয়ে সবকিছুর দাম বাড়ানো হলে তারা বাঁচবেন কিভাবে?

অক্টোবর শেষ হতে না হতেই রাজধানীর অলিগলিতে একটাই আলোচনা, জানুয়ারি থেকে ভাড়া বাড়ছে। মিরপুর থেকে যাত্রাবাড়ী, উত্তরা থেকে লালবাগ, বাড্ডা থেকে ধানমন্ডি—সবখানেই বাড়িওয়ালারা নোটিশ দিচ্ছেন। কারো ২ হাজার, কারো ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ছে, যা গড়ে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন পে-স্কেলের আলোচনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ ভাড়াটিয়াদের।

মালিবাগে ২২ হাজার টাকায় থাকা স্কুল শিক্ষিকা নাহিদা আক্তার জানান, তার সংসারে আয় করেন দুজনই বেসরকারি চাকরিজীবী। কোম্পানির অবস্থা ভালো না হওয়ায় গত ঈদে বোনাস অর্ধেক দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাড়া ৫ হাজার টাকা বাড়লে তার মেয়ের প্রাইভেট টিচার বন্ধ করে দিতে হবে। যাত্রাবাড়ীতে ১৫ বছর ধরে একই বাসায় থাকা ৬৫ বছরের শেখ ফরিদ ১৪ হাজার টাকার বাসা ১৮ হাজার টাকা হয়ে যাওয়ায় চিন্তিত। এই বয়সে নতুন বাসা খোঁজা, অ্যাডভান্স দেওয়া এবং মালামাল স্থানান্তরের খরচ জোগাড় করা তার জন্য কঠিন।

সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছেন নারী চাকরিজীবীরা। বাড্ডায় সাবলেটে থাকা সুমি আক্তার বলেন, মেয়েরা একটু নিরাপদ বাসার জন্য বেশি টাকা দিতে রাজি থাকে, বাড়িওয়ালারা সেই দুর্বলতা জানেন এবং তারা সহজে বাসা ছাড়বেন না। বেসরকারি চাকরিজীবী ইউসুফ আলীর মতো অসংখ্য মানুষ বছরের শুরুতেই চরম চাপের মুখে পড়েন। বাচ্চার স্কুল ভর্তি, ইউনিফর্ম, বই-খাতা, পাশাপাশি বাড়িভাড়া—সব মিলিয়ে নতুন বছর তাদের কাছে উৎসব নয়, বরং বাড়তি দুশ্চিন্তার নাম। কথা বললে বাড়িওয়ালারা বলেন, ‘না পোষালে বাসা ছেড়ে দিতে।’ কিন্তু বাসা বদলানোও সহজ নয়; স্কুল, কর্মস্থল, যাতায়াত খরচ—সবকিছু হিসাব করে অনেকেই বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া দিয়েই একই বাসায় থেকে যাচ্ছেন।

মিরপুর থেকে মতিঝিল, পল্টন, শাহবাগ বা কারওয়ান বাজার মেট্রোতে প্রতিদিন যাতায়াতকারী অনেক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয়রা জানান, আগে যে বাসা ১১-১২ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, সেটি এখন ১৫-১৮ হাজার টাকায় ভাড়া নিতে হচ্ছে।

সাধারণত বছরের শুরুতে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা গেলেও বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের নোটিশ ভাড়াটিয়াদের জন্য বড় ধাক্কা। মোহাম্মদপুরের মতো এলাকায় ফ্ল্যাট ভাড়া এমনিতেই চড়া, তার ওপর ৩ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার নতুন করে বাসা বদলানোর কথা ভাবছেন। যদিও বর্তমান বাজারে নতুন বাসা খুঁজে পাওয়া এবং সেখানে স্থানান্তর হওয়াও বেশ ব্যয় ও সময়সাপেক্ষ। বাড়ি ভাড়ার নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই ভাড়াটিয়াদের মধ্যে অস্বস্তি কাজ করছে। অনেকে মনে করছেন, বাড়িওয়ালারা ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করছেন না।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও তার যথাযথ প্রয়োগের অভাবে ভাড়াটিয়ারা প্রায়ই অসহায় বোধ করেন। বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে বাড়িওয়ালার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হয়।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ঢাকায় জনসংখ্যার তুলনায় ভাড়া বাসার চাহিদা বেশি হওয়ায় বাসা ভাড়া বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, ভাড়া বৃদ্ধির পেছনে বাড়িওয়ালাদের যুক্তি থাকলেও তা যৌক্তিক কিনা, তা দেখার কোনো ব্যবস্থা নেই। তাই বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা করা জরুরি, যাতে ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়গুলো আইনি কাঠামোর মধ্যে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।

ক্যাব-এর পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৫ বছরে ঢাকায় বাসাভাড়া বেড়েছে প্রায় ৪০০ শতাংশ। একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম যতটা বেড়েছে, তার তুলনায় বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ হারে। ক্যাবের গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকার ৫৭ শতাংশ ভাড়াটিয়া তাদের আয়ের প্রায় অর্ধেক ব্যয় করেন কেবল বাসা-ভাড়ার পেছনে, আর ১২ শতাংশ ভাড়াটিয়ার ক্ষেত্রে এই হার ৭৫ শতাংশের কাছাকাছি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, দেশে গত চার বছরে বাসাভাড়া বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। তবে ভাড়াটিয়ারা দাবি করেন, সরকারি হিসাবের চেয়ে বাস্তবে ভাড়া আরো বেশি হারে বাড়ছে, বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায়। বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশের গড় বাসাভাড়া প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। ঢাকা বিভাগে বছরের ব্যবধানে ভাড়া বেড়েছে প্রায় ৫.৪৮ শতাংশ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিন রুমের ফ্ল্যাটের ভাড়া এলাকাভেদে ১৮ হাজার টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাঁড়িয়েছে, এর সঙ্গে ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়।

বাড়িওয়ালারা বলছেন, তাদেরও খরচ বেড়েছে। ধানমন্ডির একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বেড়েছে। একটি ফ্ল্যাটে রঙ করাতে আগে ১৫ হাজার লাগলেও এখন মিস্ত্রি ২৮ হাজার চায়। পানির মোটরপাম্প, লিফটের সার্ভিসিং, গ্যাস-বিদ্যুতের বিল—সবই বেড়েছে।

মোহাম্মদপুর নুরজাহান রোডের বাড়িওয়ালা আমিন মোহাম্মদ বলেন, সরকার যখন পে-স্কেল বাড়ায়, তখন বাজারের সবাই মানুষের হাতে টাকা এসেছে ভেবে জিনিসের দাম বাড়ায়। তখন বাড়িওয়ালা কেন বাড়াবে না? এছাড়া ঢাকায় প্রতিদিন মানুষ আসছে, বাসার চাহিদা প্রচুর। তিনি যোগ করেন, ‘আমি না বাড়ালে পাশের বাড়ি বাড়াচ্ছে। এটা পুরোপুরি বাজার অর্থনীতি। যার পোষাবে থাকবে, না পোষালে চলে যাবে—এখন ভাড়াটিয়ার অভাব নেই।’

আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের ভারসাম্য রাখতে না পেরে অনেক পরিবার সাবলেটের দিকে ঝুঁকছেন। কেউ আবার পরিবার গ্রামে পাঠিয়ে একা থাকছেন শহরে। কারওয়ান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী শফিউল্লাহ জানান, ছোট ফ্ল্যাট ছেড়ে সাবলেটে উঠেছেন এবং পরিবার গ্রামে পাঠিয়েছেন। কিন্তু সাবলেটেও স্বস্তি নেই; বাড়তি নিরাপত্তা বিল, বাড়তি ভাড়া—সব মিলিয়ে সেখানেও বাড়ছে খরচ ও মানসিক চাপ।

মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের অবস্থাও একই রকম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসনিম জেরিন বলেন, টিউশনি ও খণ্ডকালীন চাকরি করেও মাস শেষে হাতে কিছু থাকে না। ভাড়া আর খাবারের খরচ বেড়েছে। রিয়াদুল ইসলাম নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, গত সপ্তাহে মেস মালিক নোটিশ দিয়ে নতুন বছর থেকে প্রতি রুমে এক হাজার টাকা বেশি ভাড়া নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। মালিকের বিদ্যুৎ বিল, পানি ও গ্যাস বিলের পেছনে বাড়তি খরচ হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ মেস সংঘের মহাসচিব আয়াতুল্লাহ আখতার বলেন, বাসার মালিকরা প্রতিবছরই ভাড়া বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যা অন্যায়। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, কোনোভাবেই যেন বাসা ভাড়া না বাড়ানো হয়, প্রয়োজনে আইন প্রয়োগ করতে হবে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অজিমপুরের ভিকারুননিসা নূন স্কুলের আশপাশের বাসাভাড়া অনেক বেশি। ঠিক একই মাপের বাসা কিছুটা দূরত্বে নিলে ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা কমে আসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন এবং বেশ কিছু স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আজিমপুরের আশেপাশে থাকায় এই এলাকায় থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন অভিভাবকরা। অধিকাংশ ভাড়াটিয়া শিক্ষার্থী বা ব্যাচেলর হওয়ায় হুট করে বাড়তি ভাড়ার নোটিশে তারা টানাপোড়েনে পড়েন।

মানিকনগর, বাসাবো এবং খিলগাঁওসহ বেশ কিছু এলাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের প্রাধান্য। অন্য এলাকাগুলোর তুলনায় বাসা ভাড়া কম—এই খবরে সবাই ভিড় করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। এখানেও প্রতিবছর নিয়ম করে বাসাভাড়া বাড়ে। বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বাড়তি বাড়িভাড়া নগরবাসীর যাপিত জীবনের উদ্বেগের রেখা বাড়িয়ে দিয়েছে। আবাসন খরচ বিত্তবানদের আবাসস্থল গুলশান বনানীতেও বাড়ছে, সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে সার্ভিস চার্জের খড়গ। ভাড়াটিয়াদের দাবি, অযৌক্তিকভাবে বাড়ছে নানাবিধ খরচ এবং এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ আশা করছেন তারা।

রিহ্যাবের এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ঢাকায় ২০ হাজার টাকা আয় করেও মানুষকে থাকতে হচ্ছে ঝুপড়ি ঘরে। মানসম্মত আবাসনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৫০ হাজার টাকা মাসিক আয়। এক লাখ টাকার কম আয় হলে ভালো মানের ফ্ল্যাট পাওয়া প্রায় অসম্ভব।

বাংলাদেশে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন থাকলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ প্রায় নেই। ১৯৯১ সালের আইন অনুযায়ী, বড় ধরনের সংস্কার ছাড়া দুই বছরের মধ্যে ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে মালিকরা প্রায়ই নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন। আইনজীবী সুলতান মাহমুদ বলেন, আইন অনুযায়ী অযৌক্তিক ভাড়া আদায়যোগ্য নয়। কিন্তু সুনির্দিষ্ট চুক্তি না থাকায় ভাড়াটিয়ারা আইনি পথে যেতে ভয় পান বা আগ্রহ হারান। ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বলেন, বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়ানোর ব্যাপারে আইন-কানুন, নিয়মনীতি কোনো কিছুই মানছেন না। এ ব্যাপারে সরকারের কঠোর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় আছেন নারী চাকরিজীবীরা। বাড্ডায় সাবলেটে থাকা সুমি আক্তার বলেন, ‘আমরা মেয়েরা একটু নিরাপদ বাসার জন্য ১-২ হাজার টাকা বেশি দিতে রাজি থাকি। বাড়িওয়ালারা সেই দুর্বলতাটা জানেন। তাই তারা এও জানেন, আমরা সহজে বাসা ছাড়ব না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের বিশাল বিক্ষোভ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের বিশাল বিক্ষোভ শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রমিক আন্দোলনের নামে অস্থিরতা কঠোরভাবে দমন করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গাজীপুরে শ্রম অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি ও ২১ ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন গাজীপুরে শ্রম অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বিজিবি ও ২১ ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন বেরোবিতে ক্যারিয়ার-ভার্সের যাত্রা শুরু, নেতৃত্বে লাবণ্য ও মোবাশ্বির বেরোবিতে ক্যারিয়ার-ভার্সের যাত্রা শুরু, নেতৃত্বে লাবণ্য ও মোবাশ্বির বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার অবস্থান পঞ্চম বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার অবস্থান পঞ্চম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ব্যাপক ভাঙচুর মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, ব্যাপক ভাঙচুর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাহামাগামী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাহামাগামী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৯ চলনবিলের অতিথি পাখিদের কলকাকলি, নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ চলনবিলের অতিথি পাখিদের কলকাকলি, নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ তাহসিফ হত্যা মামলা: বান্ধবী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর তাহসিফ হত্যা মামলা: বান্ধবী দিশার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় রিয়াল মাদ্রিদের রেসিং স্যান্টান্ডারের বিপক্ষে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় রিয়াল মাদ্রিদের
সব খবর