শীতের আগমনে সিরাজগঞ্জের চলনবিল অঞ্চলে বাড়ছে দেশি ও পরিযায়ী পাখির আনাগোনা। বিলের জলাশয়, ধানক্ষেত এবং গাছপালায় আশ্রয় নিচ্ছে নানা প্রজাতির পাখি। তবে একদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা পাখি রক্ষায় এগিয়ে এলেও অন্যদিকে শিকারিদের দৌরাত্ম্যে পাখির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তাড়াশের উলিপুর গ্রামে পাখির নিরাপদ আবাস গড়ে উঠলেও চলনবিলের বিভিন্ন স্থানে শিকারিরা ফাঁদ পেতে পাখি ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে, যা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
চলনবিলের জলাভূমি ও শামুকের প্রাচুর্য শামুকখোলের মতো পাখির জন্য অত্যন্ত অনুকূল। এখানে শামুকখোল, ডাহুক, ত্রিশূলবক, বালিহাঁস, রাতচরা, নীলশির ও লালশিরসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখির দেখা মেলে। তবে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাদ্য সংকট ও শিকারিদের কারণে এসব পাখির নিরাপদ বিচরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে পাখির প্রজাতির সংখ্যা নিয়ে ভিন্নতা থাকলেও বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে দেশে ৭১১ প্রজাতির পাখি রয়েছে, আর বার্ডস কানাডার তালিকা অনুযায়ী এ সংখ্যা ৮৩৫টি।
তাড়াশ পৌরসভার ঐতিহাসিক হাট উলিপুর গ্রামের শত শত গাছে এখন শামুকখোল, পানকৌড়ি, বক ও সারস পাখির বাসা। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সালাম জানান, গ্রামবাসী নিজ উদ্যোগে পাখি পাহারা দেন এবং শিকারিদের ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। পাখির বিষ্ঠার কারণে দৈনন্দিন কিছু অসুবিধা হলেও গ্রামবাসীরা পাখিগুলোকে আগলে রাখছেন। তবে তাড়াশের পাটগাড়িপাড়া মৌজাসহ চলনবিলের দুর্গম এলাকায় শিকারিরা ‘কেল্লা ফাঁদ’ ব্যবহার করে পাখি শিকার করছে, যা রোধ করা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজশাহী বিভাগীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিভাগের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবির জানান, নিরাপদ আবাসস্থল ছাড়া পাখির টিকে থাকা কঠিন। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মনে করেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, গাছ কাটা ও খাদ্য সংকট পাখির আবাসস্থল সংকুচিত করছে, তাই জলাভূমি সংরক্ষণ ও শিকার বন্ধ করা জরুরি।
তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, উলিপুর গ্রামকে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং পাখির নিরাপত্তায় পাহারাদার নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। পাখি শিকার বন্ধে উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

















