ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন দাবিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল। মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর থেকে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়ক অবরোধ ও দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে এবং ৮টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সকালে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে প্রবেশ করেন। কেউ কেউ হাজিরা নিশ্চিত করতে কার্ড পাঞ্চ করলেও কাজে অংশ না নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। একপর্যায়ে শ্রমিকেরা কারখানা থেকে বেরিয়ে সড়কে অবস্থান নেন। সকাল ৯টার দিকে নরসিংহপুর, জামগড়া ও নিশ্চিন্তপুরসহ কয়েকটি এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে কয়েকটি স্থানে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান থেকে গরম পানি নিক্ষেপের পাশাপাশি টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জও করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শ্রমিক। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সংখ্যা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিক্ষোভের একপর্যায়ে বাইপাইল এলাকায় কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। নরসিংহপুর এলাকায় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করার খবরও পাওয়া গেছে। পরে পুলিশি তৎপরতায় শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যান।
নিউএইজ কারখানার সুইং অপারেটর নাসিমা আক্তার জানান, তাদের কারখানাসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে বের হলে পুলিশ জলকামান থেকে গরম পানি নিক্ষেপ করে। পরে টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হয়। এতে অনেক শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় প্রবেশ করে হাজিরা নিশ্চিত করার পর সড়ক অবরোধ করেন। নিউএইজ, হা-মীম, ভার্চুয়াল বটম লিমিটেডসহ বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বের হয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং টিয়ারশেল ও গরম পানি নিক্ষেপ করে।
শ্রমিকদের বিক্ষোভের মুখে ছুটি ঘোষণা করা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে—অনন্ত গার্মেন্টস, ডেকো গার্মেন্টস, নিউএইজ, আল-মুসলিম, সাদিয়া ফ্যাশন, নীট এশিয়া, হা-মীম গ্রুপ ও শারমিন গ্রুপ। এসব কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে এলেও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সকালে কিছু কারখানায় শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে এলেও কাজ না করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

















