ন্যূনতম মজুরির দাবিতে পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যারা পোশাক কারখানার উৎপাদন ব্যাহত করার জন্য উসকানি দিচ্ছে, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য কোনো কোনো মহল উসকানি দিচ্ছে যেন গার্মেন্টসের উৎপাদন ব্যাহত হয়; এটা আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। কেউ যদি কোনো রকমের গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করার জন্য উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, “এখন কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ তো নেই। এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং রাজনৈতিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো কোনো মহল এই অস্থিরতার পাঁয়তারা করছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিকে ধ্বংস করার এই ষড়যন্ত্র আমরা কঠোর হস্তে দমন করব।”
পোশাকশ্রমিকের ছদ্মবেশে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে গত ২৪ ঘণ্টায় নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দাবিকেই সমর্থন করে।
শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ইতিমধ্যে শ্রমিকদের প্রধান দাবি মেনে নিয়ে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। গত সোমবার (২ নভেম্বর) প্রায় সব কটি শ্রমিক সংগঠনের নেতা, কারখানার মালিক এবং ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরকারের সফল আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া যেটা ছিল, আমরা সেটা পূরণ করেছি। মজুরি বোর্ড গঠন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাই এতে সন্তুষ্ট হয়েছে। এখন ন্যূনতম মজুরি কত হবে, তা নিয়ে মজুরি বোর্ডে দরকষাকষি হবে। তাই রাস্তায় নেমে ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো যৌক্তিক কারণ আর অবশিষ্ট নেই। কিছু দুষ্কৃতকারী হয়তো এর পরও হামলা বা নাশকতা করতে চাচ্ছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
সাংবাদিকেরা চলমান সংঘাত, ভাঙচুর ও শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে রাজধানীসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শত শত পোশাক কারখানা বন্ধ থাকার বিষয়টি নজরে আনলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “আশা করছি খুব শিগগিরই বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় খোলার ব্যবস্থা করা হবে।”
সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, সরকারের এই কঠোর অবস্থান এবং নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের মধ্য দিয়ে শিল্পাঞ্চলে চলমান এই অস্থিরতা দ্রুতই নিরসন হবে এবং উৎপাদন ব্যবস্থা আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে।

















