বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও সক্রিয় কর্মী পরিচয় দিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মি আহম্মেদের বাসায় ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ১০ লাখ টাকা আদায়ের ঘটনায় ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গুলশানের এই ঘটনায় হওয়া মামলার তদন্ত শেষে গত ১৫ অক্টোবর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফিরোজ আহম্মেদ মুন্সী এই অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযুক্তদের মধ্যে আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ, জানে আলম অপু, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন এবং আমিনুল ইসলাম রয়েছেন। এর মধ্যে আমিনুল ইসলাম শিশু হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে হবে বলে জানা গেছে। তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মুন্সী অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, ওই কার্যক্রমের মাধ্যমে আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকে এবং তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণে আবদুর রাজ্জাক ওরফে রিয়াদ ও জানে আলম অপুর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৩৮৫ ও ৩৮৬ ধারার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমানে অভিযুক্তরা জামিনে থাকলেও অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানি ১০ নভেম্বর ধার্য করা হয়েছে।
তদন্ত নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই রাতে শাম্মি আহম্মেদ গুলশানের বাসায় আছেন এমন তথ্য পেয়ে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু নিজেদের সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে গুলশান থানায় যান এবং পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা করেন। ১৭ জুলাই ভোরে গুলশান থানার এসআই আরমান আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ও অভিযুক্তরা ওই বাসায় অভিযান চালায়। সেখানে শাম্মি আহম্মেদকে না পেয়ে পুলিশ চলে আসার পর রাজ্জাক ও অপু পুনরায় বাসায় গিয়ে তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে গ্রেপ্তারের ভয় দেখান। গ্রেপ্তার এড়াতে তারা ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ১০ লাখ টাকা আদায় করেন। বাকি ৪০ লাখ টাকা নিতে ১৯ জুলাই তারা আবার বাসায় গিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে ২৬ জুলাই বিকেলে বাকি ৪০ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা পুনরায় ওই বাসায় গেলে শাম্মি আহম্মেদের স্বামী সিদ্দিক আবু জাফরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আবদুর রাজ্জাক, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব, ইব্রাহিম হোসেন ও আমিনুল ইসলামকে আটক করে। পরে জানে আলম অপুকেও গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা পুলিশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে বিভিন্ন মামলার তথ্য সংগ্রহ করত এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও চাঁদাবাজি করত।
আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে আবদুর রাজ্জাক ও জানে আলম অপু টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। রাজ্জাক নিজেকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। জব্দ করা আলামতের মধ্যে রয়েছে রাজ্জাকের বাসা থেকে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ও মুঠোফোন এবং অপুর দেওয়া তথ্যে মোহাম্মদপুরের গ্যারেজ থেকে ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, আইফোন ও নগদ ১৭ হাজার টাকা। মামলার বাদী সিদ্দিক আবু জাফরের আইনজীবী জহুরুল আলম তদন্তে সন্তোষ প্রকাশ করে ন্যায়বিচারের আশা ব্যক্ত করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানিয়েছেন, অভিযোগপত্র অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

















