মিয়ানমারের বন্দী সাবেক নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন এবং তাঁর দেখভাল করার দায়িত্ব সরকারের—এমনটাই জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মং সোয়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। সু চিকে নিজের ‘বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ানের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেন। মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে সু চি বন্দিজীবন কাটাচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমার অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের কবলে পড়েছে, যাতে এ পর্যন্ত প্রায় লাখখানেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে অচল থাকা শান্তি আলোচনার গতি ফেরানোর লক্ষ্যে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সামনাসামনি বৈঠক করেন। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল এ ধরনের প্রথম বৈঠক।
বৈঠকের বিষয়ে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারিও বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটিই প্রতীয়মান হয় যে সু চি সুস্থ আছেন। তবে তিনি আরও বলেন, সু চির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ তাঁদের নেই। থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেতকে জানান যে, আসিয়ানের সদস্যদেশগুলো সু চির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ দাবি করেছে, যাতে তাঁর সুস্থতার দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়।
শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চিকে একাধিক ফৌজদারি মামলায় ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যার মেয়াদ সম্প্রতি এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে সু চির সহযোগীদের দাবি, তাঁকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতেই এই সাজানো মামলা দেওয়া হয়েছে। সু চি কোনো ভুল স্বীকার করেননি। জান্তা সরকার এখন পর্যন্ত তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে, সেই তথ্য প্রকাশ করেনি। আসিয়ানের পাঁচ দফার শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে জান্তা সরকার ব্যর্থ হওয়ায় তাদের ওপর জোটটি চাপ বজায় রেখেছে, যদিও লাজারিও জানান, মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কিছুটা অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
বন্দী থাকা সাবেক নেত্রী অং সান সু চি (৮১) সুস্থ আছেন।
তাই তাঁর দেখভাল করার দায়িত্ব আমাদেরই।”.‘সু চি বেঁচে আছেন কি না, আমরা যাচাই করতে পারছি না’.১১ সদস্যের আসিয়ানের শীর্ষ কূটনীতিকেরা (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) গতকাল মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সামনাসামনি বৈঠক করেছেন।

















