বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ৭ নভেম্বরের বিপ্লবের মাধ্যমেই দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী করার অঙ্গীকার খুঁজে পেয়েছিল। শনিবার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তির মধ্য দিয়ে গোটা জাতি নতুন করে পথের দিশা পেয়েছিল।
১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র দুই-তিন মিনিটের মধ্যে সেদিন গোটা জাতিকে চিরতরে শৃঙ্খলিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাকশাল প্রতিষ্ঠা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণের নাগরিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর নিজেদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘাত ও রক্তপাতের ফলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং পুরো দেশ অনিশ্চয়তা ও অন্ধকারে ঢেকে যায়। সেই সময় মানুষের আকাঙ্ক্ষা ছিল প্রকৃত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের স্বাদ ফিরে পাওয়া, যা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পূরণ করেছিলেন।
রিজভী আরও বলেন, ২৩ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও তার পরিবারকে ক্যান্টনমেন্টের বাসায় বন্দি করে রাখা হয়েছিল। এতে মানুষের স্বাধীনভাবে বিকশিত হওয়ার স্বপ্ন হতাশায় পরিণত হয় এবং চারদিকে আতঙ্ক ও অরাজকতা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর তিনি মুক্তি লাভ করেন, যার মধ্য দিয়ে জাতি আবার নতুন পথের দিশা পায়। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও উৎপাদনে এগিয়ে যায় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে মানুষ বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে পায়।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে সবাই ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছাড়াও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং ডিএসসিসি প্রশাসক আব্দুস সালাম উপস্থিত ছিলেন।

















