বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরের পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। তবে এই ম্যাচ উপলক্ষে যুক্তরাজ্য থেকে কোনো অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পাঠানোর প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে দেশটির ফুটবল নিরাপত্তা সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যের ফুটবল পুলিশিং প্রধান এবং চেশায়ার পুলিশের প্রধান কনস্টেবল মার্ক রবার্টস উত্তর আমেরিকায় চলমান বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের আচরণকে ‘উদাহরণযোগ্য’ বলে প্রশংসা করেছেন। তবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ক্রীড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জকে কেন্দ্র করে বিদ্যমান রাজনৈতিক বিরোধের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচটিকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
আটলান্টা পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, সেমিফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় শহরজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, দর্শনার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় খেলার মাঠ, বিনোদনকেন্দ্র এবং জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় এই বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে, যা ম্যাচ চলাকালেও অব্যাহত থাকবে। এর মূল লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ফুটবল পুলিশিং ইউনিটের মতে, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দায়িত্বরত ব্রিটিশ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় সন্তোষজনক। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, আগের ম্যাচগুলোর অভিজ্ঞতা এবং প্রতিযোগিতার শুরু থেকেই নেওয়া পরিকল্পনার ভিত্তিতে সব পক্ষের মধ্যে ভালো সমন্বয় গড়ে উঠেছে। তাই নতুন করে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানোর প্রয়োজন দেখা দেয়নি। বর্তমানে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তারা সমর্থক সংগঠনগুলোর সঙ্গে মিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চালিয়ে যাবেন।
এদিকে একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুই দলের সমর্থকদের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে তাদের নির্দিষ্ট কিছু পানশালায় যেতে উৎসাহিত করা হবে। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে দুই দলের সমর্থকেরা একসঙ্গে অবস্থান করায় সম্ভাব্য উত্তেজনা নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েই গেছে।

















