ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর থেকেই স্পেন জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। ইতিহাসের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের খুব কাছে পৌঁছে যাওয়া দলটির কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে অবশ্য এই আনন্দের মাঝেও নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত ভঙ্গি বজায় রেখেছেন। আবেগের ছাপ কণ্ঠে থাকলেও তিনি ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন।
সেমিফাইনালিস্ট দলগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, স্পেন ও ফ্রান্সের ম্যাচটিকে যেমন আগাম ফাইনাল বলা হচ্ছিল, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াইটিও ঠিক তেমনই। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সেরা চার দল যে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে, তা ফুটবলের ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা এবং এটি এই বিশ্বকাপের গভীর সম্ভাবনাকেই নির্দেশ করে।
ফাইনালে কোন দলের মুখোমুখি হতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খেলার দিক থেকে তার কোনো বিশেষ পছন্দ নেই। তার মতে, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দুই দলেরই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য রয়েছে এবং উভয় দলই সমান শক্তিশালী। তবে ব্যক্তিগত আবেগের জায়গা থেকে লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনা নিয়ে তার আগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন এই স্প্যানিশ কোচ।
একই সঙ্গে ইংল্যান্ড দলের প্রতিও তিনি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বিশ্বকাপে আসার আগেই আমি ইংল্যান্ডকে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে গণ্য করেছিলাম। তাদের সামর্থ্য সম্পর্কে আমি অবগত এবং দুই বড় দলের মধ্যে এটি একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। তবে তিনি নিশ্চিত করেন যে, যে দলই ফাইনালে আসুক, স্পেন তাদের খোলা মনে স্বাগত জানাবে।
ফাইনালের আগ মুহূর্তের চিন্তার পাশাপাশি তিনি নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল ফ্রান্সকে হারানোর পর তিনি বলেন, আজ আমরা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম, কিন্তু তাদের সামনে ছিল বিশ্বের সেরা দলটি।
পরিশেষে স্প্যানিশ ফুটবলের প্রশংসা করে তিনি বলেন, আক্রমণ ও রক্ষণভাগে নিজেদের সামলানোর অসাধারণ দক্ষতার কারণেই আমার কাছে স্প্যানিশ ফুটবলাররাই বিশ্বের সেরা। এই সাফল্য কোচ, দল এবং ক্লাবগুলোর সম্মিলিত অর্জন। আমাদের যা আছে তার গুরুত্ব ও মূল্য আমাদের বুঝতে হবে।

















