ফুটবল বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষককে দেওয়া পুরস্কার হলো গোল্ডেন গ্লাভস। নকআউট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ সেভ এবং টুর্নামেন্টের শেষ মুহূর্তের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই পুরস্কারের দাবিদার নির্ধারণ করা হয়। বাইরে থেকে স্বর্ণের গ্লাভসের মতো মনে হলেও এটি মূলত পিতল বা তামা দিয়ে তৈরি এবং এর ওপর সোনালী রঙের প্রলেপ দেওয়া থাকে। ট্রফিটি মূলত একটি সম্মাননা স্মারক, যার কোনো নির্দিষ্ট বাজারমূল্য নেই; বরং এর ঐতিহাসিক ও আবেগীয় মূল্যই অপরিসীম।
ফ্রান্স-স্পেন সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে মাইক মাইনিয়ানকে এই পুরস্কারের প্রধান দাবিদার মনে করা হচ্ছিল। তবে স্পেন ২-০ গোলে জয়লাভ করার পর পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। এখন উনাই সিমন গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের দৌড়ে নতুন ফেভারিট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন এবং মাইনিয়ানের দরপতন ঘটেছে। ২৯ বছর বয়সী ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের এই গোলরক্ষক চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচ খেলে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন।
মঙ্গলবার সিমন চলতি বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ ক্লিন শিট অর্জন করেছেন, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে কোনো একক আসরে একজন গোলরক্ষকের করা সর্বোচ্চ ক্লিন শিটের রেকর্ড। তার হাত ধরেই স্পেন এবার বিশ্বকাপে মোট ছয়টি ক্লিন শিট পাওয়ার নতুন নজির গড়েছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচে সিমনের গোল না খাওয়ার ধারা ৬৪৯ মিনিটে গিয়ে থামে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে দীর্ঘতম।
অন্যদিকে, ২০২২ সালের গোল্ডেন গ্লাভ জয়ী আর্জেন্টিনার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এবং তার রক্ষণভাগ এই আসরে বেশ কিছু গোল হজম করেছে। তারা রাউন্ড অব ৩২-এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে দুটি, রাউন্ড অব ১৬-তে মিশরের বিপক্ষে দুটি এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে একটি গোল হজম করেছে। বুধবার সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। গত পাঁচটি বিশ্বকাপের চারটিতেই চ্যাম্পিয়ন দেশ থেকে গোল্ডেন গ্লাভস বিজয়ী নির্বাচিত হওয়ায়, এবারের লড়াইটি শেষ পর্যন্ত বেশ জমজমাট থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

















