চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সহিংসতায় ৫৬ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনায় ৫ হাজার ২৪৬ জনের বেশি নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। বুধবার মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের ২০২৫ সালের অর্ধবার্ষিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জাতীয় গণমাধ্যম, নিজস্ব অনুসন্ধান এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক সহিংসতার ৮৩০টি ঘটনায় ৫৬ জন নিহত হওয়ার তালিকায় রয়েছেন বিএনপির ৩৭ জন, জামায়াতের ৬ জন, আওয়ামী লীগের ৩ জন, চরমপন্থী দলের একজন, অন্যান্য দলের ৮ জন এবং একজন সাধারণ নারী। সহিংসতার ৮১ শতাংশই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলের সংঘর্ষের ফল। এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩৯৬টি সহিংসতার ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং ২ হাজার ৫৭৮ জন আহত হয়েছেন। এই সময়ে ছয় শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ছয় মাসে সন্ত্রাসবিরোধী ও রাজনৈতিক আইনে ১৪৪টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৩ হাজার ২৬৮ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ২৭ হাজার ৭৮৬ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং অন্তত ৩ হাজার ৬৭ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ৪০টি সভা-সমাবেশে বাধা প্রদানের ঘটনায় ৩১১ জন আহত এবং ৩৮ জন আটক হয়েছেন। সাংবাদিকদের ওপর ২০০টি হামলার ঘটনায় ৩৮৩ জন নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ২৩৪ জন আহত এবং ১১ জন আটক হয়েছেন। সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫-এর আওতায় ৩৩ জন সাংবাদিককে ১৫টি মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় ২৬১টি ঘটনায় ১৩৩ জন নিহত এবং ২৫৬ জন আহত হয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ৫০টি হামলায় ১৯টি মন্দির, ১৫টি প্রতিমা ও ৪৩টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতিতে বিএসএফের হামলায় ৯ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন, এছাড়া মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৬ জন মারা গেছেন। এ ছাড়া ৩৮ জনকে আটক এবং ১৭৩ জনকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ ইন (ঠেলে পাঠানো) করা হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কারাগারে মারা গেছেন ৫৮ জন বন্দী। নারী ও শিশু নির্যাতনের ক্ষেত্রে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে ৪০৪ জন ধর্ষণ ও ৮৮ জন সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ১ হাজার ৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে এইচআরএসএস।
নির্বাচন-পূর্ব ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ৬০০টির বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, ছয় মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় ১৪৪টি মামলা হয়েছে।
এসব মামলায় ৩ হাজার ২৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ২৪ হাজার ৫১৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

















