ফারসি শব্দ ‘দরুদ’-এর অর্থ হলো কল্যাণ প্রার্থনা বা শুভকামনা। আরবিতে একে বলা হয় ‘সলাত’, যার মূল অর্থ হলো তাসবিহ বা গুণকীর্তন, রহমত বা দয়া এবং ক্ষমা প্রার্থনা। ইসলামি পরিভাষায়, সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির প্রতি আল্লাহতায়ালার দয়া ও শান্তিবর্ষণের জন্য প্রার্থনা করে যে বাক্য পাঠ করা হয়, তাকেই দরুদ বা সালাত বলা হয় (স্যালুটেশনস অন আওয়ার ডিয়ার প্রফেট, খাজা মোহাম্মাদ জুবায়ের, খালিজ টাইমস, ০১ জুন ২০১৭/২০১৭)।
বিশ্বজাহানের স্রষ্টা আল্লাহতায়ালা স্বয়ং নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো; এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ এই নির্দেশ পালন করা মুমিনদের জন্য ওয়াজিব এবং এর মাধ্যমে অফুরান সওয়াব অর্জন করা যায়।
দিলের গভীর থেকে বেশি পরিমাণে দরুদ পাঠ করলে একই সঙ্গে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নবীজি (সা.)-এর রুহানি নৈকট্য লাভ হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সেই হচ্ছে কৃপণ, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হয়েছে অথচ সে আমার ওপর দরুদ পড়েনি।’ (তিরমিজি : ৩৫৪৬)। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের বলে দেব না, সবচেয়ে কৃপণ কে? সকলে বলল, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, তিনি বললেন, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হলো, অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না। সেই হলো সবচেয়ে বড় কৃপণ।’ (সহিহ আত-তারগিব : ১৬৮৪)।
একবার মিম্বরে ওঠার সময় জিবরাইল (আ.)-এর তিনটি বদদোয়ার ওপর নবীজি (সা.) ‘আমিন’ বলেছিলেন, যার একটি ছিল সেই ব্যক্তির জন্য, যে পিতা-মাতার উভয়কে বা তাদের একজনকে বার্ধক্যে উপনীত পেল, কিন্তু তারা তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের কারণ হলো না। (আল-আদাবুল মুফরাদ, বোখারি : ৬৪৪)।
নবীজি (সা.) আরও জানিয়েছেন, ‘মহান আল্লাহর নির্ধারিত একদল ফেরেশতা রয়েছেন, যারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ান এবং আমার উম্মতের সালাম আমার কাছে পৌঁছে দেন।’ (সহিহ ইবনে হিব্বান : ৯১৪)। যারা তাঁর কবরের পাশে দরুদ পাঠ করে, তিনি তা সরাসরি শোনেন এবং দূর থেকে পাঠ করা দরুদও তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। যেকোনো ব্যক্তি যখন সালাম পেশ করে, আল্লাহ তখন নবীজির আত্মা ফিরিয়ে দেন এবং তিনি সেই সালামের জবাব দেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার কবরের পাশে আমার ওপর দরুদ পেশ করে, আমি তা শুনি। আর যে দূরে থেকে আমার ওপর দরুদ পড়ে, তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৬/৬০৫)।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যখন আমার ওপর সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন। ফলে আমি তার সালামের জবাব দিই।’ (আবু দাউদ : ২০৪১)।

















