নরওয়ের হয়ে আর্লিং হালান্ডের গোল করার লড়াই অব্যাহত থাকবে। কারণ, গত রাতেই হালান্ডের দল নরওয়ে আইভরিকোস্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নরওয়ের হয়ে জয়সূচক গোলটিও এসেছে আর্লিং হালান্ডের পা থেকে।
আইভরিকোস্টের বিপক্ষে ম্যাচের ৮৬ মিনিটে করা ওই জয়সূচক গোলটি হয়তো হালান্ডের ক্যারিয়ারের অন্যতম সহজ গোল। প্যাট্রিক বার্গের বাড়ানো পাসে কেবল বলে পা ছোঁয়ানোর কাজটুকু করতে হয়েছে তাকে, সেটিই তিনি করেছেন। তবে মাঠের খেলায় এই সাধারণ গোলটিই তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর একটি হয়ে থাকবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে হালান্ডের পরিসংখ্যান বেশ চোখধাঁধানো। মলদোভা, রোমানিয়া, কাজাখস্তান ও জিব্রাল্টারের মতো দলের বিপক্ষে হ্যাটট্রিকসহ তার ঝুলিতে ৫৩ ম্যাচে ৬০টি গোল রয়েছে। তার গোল করার গড় হার প্রতি ৭২ মিনিটে একটি। তবে প্রথম ৫৫টি গোলের একটিও কোনো বড় টুর্নামেন্টে না আসায় কিছুটা আক্ষেপ ছিল, কারণ আগে ইউরো খেলার সুযোগ মেলেনি আর এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলছেন তিনি।
নরওয়ের হয়ে সর্বশেষ ১৩টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের প্রতিটিটিতে গোল করেছেন হালান্ড, যার মোট সংখ্যা ২৫টি। যদিও এর মধ্যে মলদোভা, ইসরাইল ও এস্তোনিয়ার মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল রয়েছে, তবে ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে তার জোড়া গোল ছিল দুর্দান্ত। এই জয়ের মাধ্যমেই নরওয়ে ২০০০ সালে ইউরোর পর এবারের বিশ্বকাপ দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো বড় টুর্নামেন্টে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে।
এরপর বিশ্বকাপে ইরাকের প্রতিরোধ ভাঙতেও তিনি দুটি গোল করেন এবং সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ জেতাতেও দুটি গোল করেছিলেন। ফ্রান্সের বিপক্ষে তাকে বিশ্রাম দেওয়ায় বহুল প্রতীক্ষিত এমবাপ্পের সঙ্গে লড়াইটি আর হয়নি। সব মিলিয়ে ২৫ বছর বয়সি হালান্ড যে গতিতে গোল করে যাচ্ছেন, তাতে তার আন্তর্জাতিক গোলসংখ্যা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে প্রশ্ন জাগছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে যদি তার তুলনা করা হয়, তবে দেখা যায় রোনালদো পর্তুগালের হয়ে ২৩১ ম্যাচে ১৪৫টি গোল করেছেন, অর্থাৎ প্রতি ১.৫৯ ম্যাচে তিনি গড়ে একটি গোল করেন। অন্যদিকে, হালান্ড ৫৩ ম্যাচে ৬০ গোল করেছেন, যার অর্থ তিনি প্রতি ০.৮৮ ম্যাচে একটি গোল করেন। হালান্ড যদি এই গতি ধরে রাখতে পারেন, তবে মাত্র ১২৮তম ম্যাচেই তিনি রোনালদোর বর্তমান রেকর্ড স্পর্শ করবেন।
নরওয়ে যদি বছরে বাছাইপর্ব, প্রীতি ম্যাচ ও টুর্নামেন্ট মিলিয়ে গড়ে ১০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে এবং ২০৪০ সাল পর্যন্ত হালান্ড সব বড় টুর্নামেন্টে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন ও প্রতিবার গ্রুপ পর্ব পর্যন্তও খেলেন, তবে ৪১ বছর বয়সে তার আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা ২৬০-এ গিয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

















