২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ম্যাচটিকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে তৈরি হওয়া ব্যাপক চাহিদার প্রভাব পড়েছে অনলাইন টিকিট পুনর্বিক্রয় বাজারে। কানাডার টরন্টোতে হতে যাওয়া এই লড়াইয়ের কিছু টিকিটের দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সিটিভি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিটগ্যাকের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কিছু আসনের মূল্য ৩০ হাজার কানাডিয়ান ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এছাড়া সিটগ্যাক ও স্টাবহাবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে আরও অনেক টিকিট কয়েক হাজার কানাডিয়ান ডলারে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে। সবথেকে সস্তা একক টিকিটের দামও ২ হাজার ৬০০ কানাডিয়ান ডলারের বেশি দেখা গেছে। অথচ ২০২৫ সালে ফিফা যখন আনুষ্ঠানিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, তখন একই ম্যাচের টিকিটের মূল্য ছিল ৩৩৫ থেকে ৮৭৫ কানাডিয়ান ডলারের মধ্যে।
টরন্টোতে এই ম্যাচটি ঘিরে প্রচুর আগ্রহের একটি বড় কারণ হলো শহরটির পর্তুগিজ ও ক্রোয়েশীয় জনবসতি। বৃহত্তর টরন্টো এলাকায় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার পর্তুগিজ ও প্রায় ৩৫ হাজার ক্রোয়েশীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বাস করেন, যার ফলে সমর্থকদের মধ্যে টিকিট পাওয়ার প্রতিযোগিতা তুঙ্গে।
এই ম্যাচের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আবেগঘন কারণও রয়েছে। দুই দলের যেকোনো এক পক্ষ হারলেই তা সম্ভবত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কিংবা লুকা মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ হয়ে থাকবে। অন্যদিকে জয়ী দল সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করবে। এদিকে টিকিটের এই আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে আইনি বিতর্কও শুরু হয়েছে। টরন্টো যে অন্টারিও প্রদেশে অবস্থিত, সেখানে মূল দামের চেয়ে বেশি দামে টিকিট পুনর্বিক্রয় নিষিদ্ধ করে আইন পাস হয়েছে। তবে পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মগুলোর দাবি, বিক্রেতারা কত দামে টিকিট কিনেছিলেন তা যাচাই করা কঠিন হওয়ায় আইন প্রয়োগ করা চ্যালেঞ্জিং।

















