ইরানের বিরুদ্ধে টানা নবম দিনের মতো সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালালে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে উচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি নেটওয়ার্ক, নৌ সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও বেসামরিক নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতে এই হামলা চালানো হয়। এ সময় মার্কিন সেনারা ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ গতিপথ পরিবর্তন নিশ্চিত করেছে এবং একটি জাহাজকে অচল করে দিয়েছে। তবে উত্তর ইরাকে একটি ভূপাতিত ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে একজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, আইআরজিসি দাবি করেছে যে তারা কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সফল হামলা চালিয়েছে। আইআরআইবি-এর তথ্যমতে, ড্রোন হামলায় একটি আগাম সতর্কীকরণ রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছে এবং মার্কিন বিমান চলাচল সরঞ্জামের গুদাম ও এমকিউ-৯ ড্রোন হ্যাঙ্গারে আঘাত হানার ফলে বেশ কিছু উড়োজাহাজে আগুন ধরে গেছে। যদিও কুয়েত কর্তৃপক্ষ এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। তবে জর্ডানে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং কুয়েতের অবকাঠামোতে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ইরানের ডারখোভিন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বা সাইরেন বাজিয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। মানামায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, রাজধানী শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইরানের হামলার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরান হরমুজ প্রণালিকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি বিশ্বজুড়ে অন্যান্য দেশকেও সমুদ্রপথের সুরক্ষায় দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে, বিশেষ করে তাবরিজ, বুশেহর, হরমোজগান, সিস্তান ও বেলুচিস্তান এবং খুজেস্তান প্রদেশের বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে যে লোরেস্তান প্রদেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

















