বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই খুলনার রূপসা উপজেলার শ্রীরামপুর, নিহালপুরসহ পাঁচটি গ্রামের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টি ও নদীর পানির প্রবল চাপে স্থানীয় বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে, যা এলাকার প্রায় ১২০০ বিঘা আমন ধানের আবাদ ও মাছ চাষের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা এলেই বাঁধ সংস্কারের তোড়জোড় শুরু হয়, তবে কৃষকদের অভিযোগ, দুই বছর আগে বরাদ্দ পাওয়া ৩ লাখ টাকা ও ৬ টন গমের সঠিক ব্যবহার না হওয়ায় কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
স্থানীয় কৃষক আলকাজ শেখ জানান, প্রতিবছরই বাঁধের জন্য কিছু বরাদ্দ আসে, কিন্তু বিভিন্ন দপ্তরে ভাগাভাগির পর যা অবশিষ্ট থাকে তা দিয়ে নামমাত্র কাজ হয়। তিনি পুরো বাঁধটি মজবুত করে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলটি উচ্চ ফলনশীল সবজি চাষের জন্য পরিচিত এবং গত বছর এখানে ১২০০ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছিল, যেখানে প্রতি বিঘায় প্রায় ১৮ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে।
নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মহিউদ্দিন মিন্টুর দাবি, নদীর ওপারে থাকা ইটের ভাটাগুলো অবৈধভাবে নদীতে বর্জ্য ফেলে ভরাট করছে, যার ফলে পানির চাপ বাড়ছে এবং বাঁধ ভাঙছে। শ্রীরামপুর বিল পানি ব্যবস্থাপনা সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন হিবু জানিয়েছেন, ভাঙনের বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতাদের জানানো হয়েছে এবং এলাকাবাসী যেকোনো সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন।
এ বিষয়ে নৈহাটি ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইলিয়াস হোসেন বলেন, গত বছর এলজিইডি থেকে ৩ লাখ টাকা এবং পিআইও অফিস থেকে ৬ টন চালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বছর আরও সাড়ে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে। রূপসা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. নাজমুল হুদা জানিয়েছেন, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রিকতা জানান, ভাঙন এলাকা পরিদর্শনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলীকে ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

















