স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার যে প্রস্তাব এসেছিল, তাতে সায় দেয়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রকৃতির হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার আইনি কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, যোগ্যতার নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন, কারণ কোনো দলের নেতাদের নিষিদ্ধ করার এখতিয়ার কমিশনের নেই।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের—সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ—নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট দলের নেতাদের নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবে সায় না দিলেও, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও দ্বৈত নাগরিক এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
সংশোধনী প্রস্তাবে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক, ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার বিষয়টি। এছাড়া, নির্বাচন-সংক্রান্ত আপিল দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষে এক সদস্যের আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
ইসির পক্ষ থেকে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে যে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য ভোটারের ১ শতাংশ সমর্থনসূচক স্বাক্ষরের বিদ্যমান বিধান বাতিল করা হবে। একই সাথে জামানতের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য প্রদানের প্রমাণ পাওয়া গেলে মনোনয়ন বাতিলের বিধান যুক্ত করার প্রস্তাবও চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

















