নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন লোক কল্যাণ মার্গ’র কাছে কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচি থেকে বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) মিছিলে পুলিশের কঠোর অভিযানের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচি চলাকালীন রাহুল গান্ধীকে বলপ্রয়োগ করে পুলিশের একটি বাসে তোলা হয়।
আটকের পর রাহুল গান্ধীকে দিল্লির মডেল টাউনের ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। একই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অন্যান্য বিরোধী দলীয় নেতাদেরও সেখানে রাখা হয়। অন্যদিকে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে আটক রাখা হয়েছে। কংগ্রেস সংসদীয় দলের চেয়ারপারসন সোনিয়া গান্ধী প্রিয়াঙ্কার খোঁজ নিতে মন্দির মার্গ থানায় পৌঁছেছেন। এছাড়া, বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে কিংসওয়ে ক্যাম্প এলাকায় রাখা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
ছত্রসাল স্টেডিয়ামের ভেতর থেকে কংগ্রেস সংসদ সদস্য হিবি ইডেন অভিযোগ করেন যে, তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করছিলেন। তিনি দাবি করেন, দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার করেছে এবং এই ঘটনায় নারী সংসদ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। তিনি পুলিশের এই পদক্ষেপকে নির্মম ও উসকানিমূলক বলে অভিহিত করেন।
গ্রেপ্তারের আগে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছিলেন যে, সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা এড়াচ্ছে। তিনি এর আগে পুলিশি অভিযানে আহতদের দেখতে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে গিয়েছিলেন। আটক হওয়ার সময় প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, সরকার ভীতু এবং তারা কোনো কিছুতেই ভয় পান না।
মিছিলে অংশ নেওয়া কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা ও ডি কে শিবকুমারসহ বহু কর্মীকেও পুলিশ আটক করেছে। রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, এটি কোনো সমাপ্তি নয় বরং এক নতুন বিপ্লবের সূচনা। তিনি আরও বলেন, লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংসকারী মোদিজিকে অবশ্যই জবাব দিতে হবে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং দাবি করেছেন যে, রাহুল গান্ধী প্রথমে পার্লামেন্টে আলোচনার সুযোগ পেলে অবস্থান ধর্মঘট তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার দাবি মানার পর তিনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নতুন শর্ত জুড়ে দেন এবং আইন অমান্য করে অনশনস্থলেই অবস্থান অব্যাহত রাখেন।

















