প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সরাসরি অনলাইনে আপলোড করার সুযোগ থাকবে।
ইসি সচিব জানান, বর্তমানে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়াটি ছিল দুই ধাপের। আবেদনকারীরা ফর্ম জমা দেওয়ার পর বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতেন, যা পরবর্তীতে তদন্তের জন্য পাঠানো হতো এবং তদন্ত শেষে তা আপলোড করা হতো। নতুন নিয়মে প্রবাসীরা নিজেরাই বায়োমেট্রিক তথ্য আপলোড করে দিতে পারবেন। নির্বাচন কমিশন সেই তথ্যের যথার্থতা যাচাই করে সরাসরি অনুমোদন দেবে, ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় একটি ধাপ কমে আসবে।
ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আরও জানান, ভোটার এলাকা পরিবর্তনের বা মাইগ্রেশনের আবেদন এখন থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে গ্রহণ করা হবে এবং এই সেবার জন্য নির্ধারিত সংশোধন ফি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া জেএসসি, এসএসসি বা অন্যান্য পাবলিক পরীক্ষার সনদে থাকা জন্মতারিখের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্মতারিখ সংশোধনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগে এনআইডিতে জন্মতারিখ সংশোধনের কাজ কেন্দ্রীয়ভাবে করা হতো, এখন তা মাঠপর্যায়েই সম্পন্ন করা যাবে।
ভোটার তালিকাভুক্তির বয়সসীমা নিয়ে সচিব বলেন, বর্তমানে ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হয়। একজন নাগরিক ১৮ বছর পূর্ণ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান এবং তার আগ পর্যন্ত তথ্যগুলো ডরমেন্ট অবস্থায় থাকে। এখন তথ্য সংগ্রহের বয়সসীমা আরও নিচে নামানো যায় কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। এসএসসি, অষ্টম শ্রেণি কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ের এনরোলমেন্টের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহের সম্ভাবনা নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

















