ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের গাড়ি চালক ওবায়দুল রহমানকে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার পল্লবী থানায় দায়ের করা এই মামলায় এমপি ছাড়াও মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ, আমিনুর রহমান ও রাকিবুল হাসান নামে আরও চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে ওবায়দুল রহমান উল্লেখ করেন, তিনি পল্লবীর কালশী এলাকার রোজগার্ডেন টাওয়ারে তার বোনের বাসায় থাকতেন এবং এমপির ব্যক্তিগত গাড়ি চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে এমপি নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন এবং এক পর্যায়ে ওবায়দুল রহমানের ভাগ্নির সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওবায়দুল বিষয়টি টের পেয়ে তার পরিবারকে অবহিত করেন এবং এমপিকে এমন সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র এমপি ও ওই তরুণীর কিছু আপত্তিকর ভিডিও সংগ্রহ করে এমপিকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এমপি নজরুল ইসলামের ধারণা হয় যে, ওবায়দুলই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের কাছে সরবরাহ করেছেন। এই বিরোধের জের ধরে গত ১৪ জুলাই বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান কৌশলে ওবায়দুলকে তাদের বাসার ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন এবং আমিনুর ফ্লোরে ফেলে ওবায়দুলের গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুলের মা ও ছোট বোন চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যার হুমকি দিতে থাকে।
মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ আসামি আমিনুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের উপপরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আমিনুরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং আগামী ২৪ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ায় বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। এর আগে সোমবার রাতে এক তরুণীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি এআই দ্বারা নির্মিত দাবি করা হলেও এমপি পরে জানান তরুণীটি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। তবে ওই তরুণীর চাকরির সুপারিশপত্রে বৈবাহিক অবস্থা ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ থাকায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কাজী বাকী বিল্লাহ জানিয়েছেন, মঙ্গলবারই কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে এবং এমপি তাকে বিয়ের তারিখ ১৭ জুন উল্লেখ করতে বলেছিলেন।

















