বিশ্বকাপের টানা ছয় সপ্তাহের লড়াই শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ ফুটবলারের জন্য এখন বিশ্রামের সময় হলেও, কিছু খেলোয়াড় পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই এক প্রকার ‘বিশ্রামে’ ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে মোট ৪৮টি দলের ১ হাজার ২৪৮ জন খেলোয়াড় স্কোয়াডে ছিলেন। তাঁদের বড় একটি অংশ মাঠে নামার সুযোগ পেলেও, বেশ কয়েকজন দুর্ভাগা ফুটবলার পুরো টুর্নামেন্টে এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামার সুযোগ পাননি।
ফ্রান্সের ৩৫ বছর বয়সী এনগোলো কান্তের সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও এবারের বিশ্বকাপে তাঁকে নিয়ে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। কোচ দিদিয়ের দেশম ফ্রান্সের ৮টি ম্যাচের একটিতেও তাঁকে মাঠে নামাননি, এমনকি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণীর মতো ম্যাচেও নয়। ইংল্যান্ডের কোবি মাইনুও ছিলেন হতাশায় নিমজ্জিত। ইউরো ২০২৪-এর ফাইনালে খেলা এই মিডফিল্ডারকে টমাস টুখেল একবারও বদলি হিসেবে নামাননি। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পুরোপুরি ফিট না থাকলেও, মাইনু ছিলেন ইংল্যান্ডের একমাত্র আউটফিল্ড খেলোয়াড় যিনি এক মিনিটও খেলার সুযোগ পাননি। অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের গোলকিপার জেমস ট্র্যাফোর্ডও পুরো সময় বেঞ্চে কাটিয়েছেন।
স্পেনের ভিক্টর মুনিয়োজ ও দাভিদ রায়া বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য হলেও মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তাঁদের। মুনিয়োজ চোটের কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতে ছিলেন না, আর গোলকিপার রায়া স্পেনের শক্তিশালী গোলকিপিং বিভাগের কারণে উনাই সিমনের পেছনেই থেকে গেছেন। স্পেনের আরেক খেলোয়াড় আলেহান্দ্রো গ্রিমালদোও পুরো আট ম্যাচ কেবল দর্শক হিসেবেই কাটিয়েছেন, যদিও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন পদক পেয়েছেন।
ব্রাজিলের সেন্টার ব্যাক ব্রেমারও দলের প্রথম পছন্দের জুটির কারণে মাঠে নামার সুযোগ পাননি। উরুগুয়ের রোনাল্ড আরাউহো চোটের কারণে প্রথম দুই ম্যাচে বাদ পড়ার পর শেষ ম্যাচেও কোচের আস্থার জায়গা পাননি। এছাড়া পর্তুগালের রক্ষণভাগের গনসালো ইনাসিও এবং নেদারল্যান্ডসের ম্যাটস উইফারও পুরো টুর্নামেন্ট বেঞ্চে বসেই শেষ করেছেন।

















